বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে পাকিস্তান হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার রাজনৈতিক পরামর্শক কামরান ধাঙ্গাল। অন্যদিকে ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর।
বৈঠক শেষে পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক বর্তমানে ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সামরিক ও বেসামরিক পর্যায়ে একাধিক সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফর করে দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। পাশাপাশি গত মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত পাকিস্তান শিক্ষা মেলাও সফল হয়েছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষা খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশি ৫০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন হাইকমিশনার। এরই মধ্যে ৭৪ জন শিক্ষার্থী পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষার জন্য গেছেন বলে জানান তিনি।
এছাড়া দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষার্থী ও জ্ঞান বিনিময় কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং ‘নলেজ করিডোর’ প্রকল্পকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার সংসদীয় পর্যায়ে সম্পর্ক জোরদারে একটি বিশেষ সংসদীয় গ্রুপ গঠনের প্রস্তাবও দেন।
আলোচনার এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি উদ্যোগে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি হাইকমিশনারের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষা, বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে এই বৈঠক বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
Leave a Reply