চব্বিশের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ নিয়ে সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বক্তব্য ও তৎকালীন সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক এখনো চলছে। আন্দোলনের সময় মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ডেটা সেন্টারে আগুন, ফাইবার কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং সাবমেরিন কেবলের সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন পলক। এমনকি সরকারি বার্তাতেও আগুনের কারণে ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
তবে পরবর্তী সময়ে এ দাবির সঙ্গে তদন্তের তথ্যের অসঙ্গতি সামনে আসে। পলক একাধিক বক্তব্যে দাবি করেছিলেন, সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করেনি; বরং মহাখালীর ডেটা সেন্টারে অগ্নিসংযোগের কারণে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে যায়। আবার তিনি বলেছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান ও জরুরি সেবায় ইন্টারনেট চালু ছিল। এদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে পলক স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম।
প্রসিকিউশনের দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল। আন্দোলন চলাকালে গণহত্যার তথ্য বিশ্বের কাছ থেকে আড়াল করতেই ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন চিফ প্রসিকিউটর।
পলকের আগে দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে প্রসিকিউশন বলছে, ডেটা সেন্টারে আগুন ও সাবমেরিন কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে ইন্টারনেট বন্ধ হয়েছিল—এমন তথ্যও অসত্য। এর আগে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় তৎকালীন সরকারই পুরো দেশকে ইন্টারনেটবিহীন করে রেখেছিল।
প্রতিবেদনে ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনায় পলক, বিটিআরসি ও এনটিএমসির সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করা হয়। ফলে ইন্টারনেট বন্ধের প্রকৃত কারণ, কার নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং তৎকালীন সময়ে জনগণকে দেওয়া তথ্য কতটা সত্য ছিল—এসব প্রশ্ন এখন তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
Leave a Reply