সম্পত্তি দান করলেও দাতা তার জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহার করার অধিকার বজায় রাখতে পারবেন। এমন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে সংশ্লিষ্ট আইনের সংশোধনী খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী।
বর্তমানে প্রচলিত আইনে কোনো ব্যক্তি সম্পত্তি দান করলে সেই সম্পত্তির মালিকানা ও ভোগদখলের অধিকার সম্পূর্ণভাবে গ্রহীতার কাছে চলে যায়। ফলে দাতা চাইলে পরবর্তীতে সেই সম্পত্তি ব্যবহার করার আইনি সুযোগ থাকত না।
তবে নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর হলেও দাতা জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহার করার আইনি অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন। অর্থাৎ, সম্পত্তি সন্তান বা অন্য কাউকে দান করলেও জীবিত থাকা পর্যন্ত তিনি আগের মতোই সেখানে বসবাস বা ব্যবহার করতে পারবেন।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও অনুমোদন করা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, এই আইন গুম প্রতিরোধ, গুমের ঘটনায় দায়ীদের বিচার, নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত আইনি কাঠামো তৈরি করবে।
নতুন আইনে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্য গ্রহণ এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীদের পরিচয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের জন্য সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। দোষী ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা না গেলে রাষ্ট্র সেই ক্ষতিপূরণ দেবে বলেও আইনের খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।
একই বৈঠকে ‘অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ঔষধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন করা হলেও, ১৯৯৪ সালের অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ও সরকারি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্পত্তি দান আইনের এই সংশোধন পারিবারিক বিরোধ কমাতে এবং দাতার অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি গুম প্রতিরোধে নতুন আইন মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
Leave a Reply