1. 01404006688bd@gmail.com : জুলিয়া জাহান : জুলিয়া জাহান
  2. admin@channelgbangla.com : admin :
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৪৩ অপরাহ্ন

রায়ের কপি জালিয়াতি করে মন্দিরের জমি নামজারি-বিক্রির অভিযোগ

ফিরোজ আলম, শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৫ বার পঠিত

শরীয়তপুরে সনাতন ধর্মীবলম্বীদের ১০৩ বছরের ইতিহাস ঐতিহ্য মন্ডিত উপাসনালয় শ্রী শ্রী শ্যামসুন্দর জিউ পালং হরিসভা কেন্দ্রীয় মন্দিরের জমি আদালতের রায় জালিয়াতির করে নিজেদের নামে ভূয়া কাগজপত্র সৃজনের মাধ্যমে নামজারি করে তা আত্মসাৎ কোটি টাকা বিক্রি করার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে ।

জেলা শহরের পালং নিবাসী স্বর্গীয় যোশেদা বণিকের উত্তরাধিকারী স্বর্গীয় স্বপন বণিক ,মন্টু বণিক, ঝন্টু বণিক রতন বণিক, সম্ভু বণিক, নন্দ কুমার, বণিক নিরঞ্জন বণিক , মানিক বণিক , কালাচাঁন বণিক , ও বলরাম বণিক এর সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।মামলার রায়ের কপি ও ইনফরমেশন স্লিপ এর মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এ সংক্রান্ত শরীয়তপুর সদর উপজেলাধীন চিকন্দি মুন্সেফি আদালতের মামলার আর্জি ও আদালতের রায়ের কপি পর্যালোচনা করে জানা যায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার পালং মৌজার যশেদা জীবন বণিক ১৯৭৭ সনে প্রতিপক্ষ মাখন লাল মনিক, মাধব চন্দ্র বণিক, ছকড়ি লাল বণিক শ্যামসুন্দর বনিক, মহেন্দ্র চন্দ্র বণিক, প্রাণ বল্লভ বণিক, বলরাম বনিক, গুপি মোহন বণিক, প্রহলাদ চন্দ্র বণিক, ধ্রুব লাল বনিক ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে তৎকালীন ফরিদপুরের ডেপুটি কমিশনার কে বিবাদী করে একটি দেওয়ানী মামলা রুজু করেন। মামলা নম্বর ৫১৩/১৯৭৭। মামলার আর্জিতে যোশোদা জীবন বণিক তৎকালিন ফরিদপুর জেলাধীন পালং থানার অন্তর্গত ৬০ নং পালং মৌজার ৪১৫ খতিয়ানের ৯৫৪ দাগে . ৮৯ , ৯৫৯ দাগে .৫৯ , ৯৭১ দাগে . ১২ শতাংশের সর্বমোট ১ একর ৬০ শতাংশ ভূমি থেকে ১একর ৬.৩/২ অংশ,
একই মৌজার ১৯৭ খতিয়ানের ৯৫৫ দাগে .১১ , ৯৫৬ দাগে .৫ শতাংশের মোট . ১৬ শতাংশ ভূমি থেকে ১০.৩/২ অংশ, ১১৩৭ খতিয়ানের ৯১২ দাগে ২৯ , ৯১৩ দাগে ৫ ও ৯২১ দাগে ৪ শতাংশসহ মোট ৩৯ শতাংশ ভূমি থেকে ২৬ শতাংশ, ৫১ খতিয়ানের ৯২৮ দাগে ৩৫ থেকে ২৩.৩/১ অংশ, ৪০৬ খতিয়ানের ৮২৭ দাগের ২৩ থেকে ১১ শতাংশ ও ৩৫০ খতিয়ানের ৯২৮ দাগের ৪০ শতাংশ থেকে ২৬.৩/২ সহ সর্বমোট ২ একর ৪. ৩/১ শতাংশ ভূমি দাবি করেন।

দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে অজানা কারণে মামলার বিবাদীদের অনুপস্থিতিতে মামলাটি একতরফা নিষ্পত্তি হয় এবং যশোদা জীবন বণিকের দাবী বাস্তবায়িত হয়। রায়ের পর যোশেদা জীবন বণিক রায়ে প্রাপ্ত ২ একর ৪. ৩/১ শতাংশ জমি থেকে ১ একর ৬ শতাংশ জমি রাধেশ্যাম বণিকের নিকট বিক্রি করে দেন ।

মামলায় আর্জি ও রায়ের কোথাও ৭৭৯ খতিয়ান ও উক্ত খতিয়ানভূক্ত ৯৬৩, ৯৬৪ ও ৯৬৫ দাগের উল্লেখ না থাকার পরও রায়ের মধ্য তৎকালীন টাইপ রাইটিং মেশিন দিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে একটি লাইন বসিয়ে উল্লেখিত ৭৭৯ খতিয়ানের ৯৬৩,৯৬৪ ও ৯৬৫ দাগ উল্লেখ করে তিন দাগে সর্বমোট ২৬ শতাংশ ভূমি জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেন।

পরবর্তীতে উক্ত রায়ের কপি দিয়ে যশোদা বণিকের উত্তরাধিকারী স্বপণ বণিক ,মন্টু বণিক , ঝন্টু বণিক , রতন বণিক সহ অন্যান্যরা নিজেদের নামে অবৈধভাবে নামজারি নম্বর ৭৩২/২০১৪-১৪ ও ৩৭০/২০১৪-১৫ সম্পন্ন করে তার কিছু অংশ শরীয়তপুর সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে ৪৩৯১/ ২০২০ দলিল মূলে বিক্রি করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। আমরা জানতে পারি, বিক্রিত দলিলের সাক্ষী বাদল চক্রবর্তী, বয়ষ ৭৫, পেশা ব্যাবসা । কিন্তু তখন তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্দিরের পুরোহিত। মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তিনি সাক্ষী দিয়ে মন্দিরের জমি বিক্রিতে সহায়তা করেন। এবং বিক্রির জমিত জমির দাগ খতিয়ানেও প্রতারণা আশ্রয় নেন।‌ বিক্রিত জমির দলিল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৭৭৯ খতিয়ানের দাগ নং ৯২৯, ৯৬৩ । ৭৭০ খতিয়ানে এসে এ দাগ ৯৬৫ ,৯২১।

এ প্রসঙ্গে শরীয়তপুর পালং হরিসভা কেন্দ্রীয় মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক শ্রী সুশীল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, আমরা জানতে পেরেছি আমাদের মন্দিরের নামে থাকা এসএ, ৯৬৩, ৯৬৪ ও ৯৬৫ দাগের ২৬ শতাংশ জমি একটা পক্ষ একটি মামলার রায় জালিয়াতি করে নিজেদের নামে নিয়ে তা অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা চাই, যে ভাবে ছিলাম সেভাবে যেন থাকতে পারি। সরকারের কাছে অনুরোধ আমাদের জমিটা যেন আমাদের ফেরত দেওয়া হয় এবং এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার আমি দাবি জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, আমাদের সনাতন ধর্মীয় বিভিন্ন পূজাপার্বণে পার্শ্ববর্তী দেশ ইন্ডিয়া সহ দেশ-বিদেশীর অনেক ভক্ত আসে। স্থান সংকুলান এর অভাবে আমরা তাদের যথাযথ আদর আপ্যায়ন করতে পারি না। সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ আমাদের মন্দিরের যে জায়গাটা জালিয়াতি করে নেয়া হয়েছে তা ফিরিয়ে দেয়া হোক। এতে করে আমাদের এ সমস্যা আর থাকবে না।

পালং হরিসভা কেন্দ্রীয় মন্দিরের সভাপতি শ্রী মুকুল চন্দ্র রায় বলেন, আমি ইদানিং কালে যেটা জেনেছি, সেটা হলো একটি পক্ষ পালং হরিসভার ১৩.৫ শতাংশ জমি ডিগ্রির মাধ্যমে জালিয়াতি করে রেকর্ড করেছেন। যদিও ডিগ্রিতে ঐ রেকর্ড ও জমির পরিমাণ দাগ নম্বর উল্লেখ ছিলনা । ঐ জমির দাগ এসেএ রেকর্ডে ৯৬৩, ৯৬৪ ও ৯৬৫। সে মোতাবেক বিআরএস রেকর্ড পরিস্কার নামে ঠিকঠাক লিপিবদ্ধ হয়। তখন যে ডিগ্রি হয়েছিল ৫১৩/১৯৭৭ সনে , যা স্থানীয় বনিকরা তাঁদের শরিকদের ঠকিয়ে প্রতারণা করে যশোদা জীবন বণিক ডিগ্রি প্রাপ্ত হন। যাতে উল্লেখিত এসএ ও বিআরএস দাগের কোনো উল্লেখ ছিলনা। উক্ত ডিগ্রিতে ওভার রাইটিং করে উল্লেখিত দাগ সমূহ অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

আমরা জানতে এই সম্পত্তি বিক্রি করা হয়েছে। কি করে বিক্রি হলো তার খোঁজ খবর নিতে গিয়ে আমরা দেখলাম, সম্পূর্ণ জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেরা মালিক হয়ে অবৈধ মিউটেশন করে তাঁরা জমিটি হস্তান্তর করেছেন। আমি এই প্রতারক চক্রের বিচার চাই এবং হরিসভার সম্পত্তি ফেরৎ চাই। বিষয়টি সম্পর্কে রতন বনিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রায় জালিয়াতি সম্পর্কে আমি জানি না । এ সময় উল্লেখিত জমি নিজেদের বলে দাবি করেন। মন্দিরের জমি বিক্রির কথা তিনি অস্বীকার করে বলেন, মন্দিরের মধ্য আমাদের জমি রয়েছে।

মন্দিরের সাবেক পুরোহিত স্বর্গীয় বাদল চক্রবর্তীর ছেলে বর্তমান পুরোহিত বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী বলেন, মন্দিরে বাইরে মন্দিরের জায়গা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে পালং ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, যোশেদা বণিকের ডিগ্রি প্রাপ্ত উক্ত ভূমির উপর অনেক মিউটেশন ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এ প্রসঙ্গে কোন অভিযোগ ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে যথাযথ ডকুমেন্টস পেলে তাৎক্ষণিক মিউটেশন বাতিল করে দেব ।

Download Photocard

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2026
Design By Raytahost