বিশ্বকাপে বড় তারকা হালান্ড, কিলিয়ান এমবাপে ও লিওনেল মেসি যেখানে নিজেদের অভিযান শুরু করেছেন দুর্দান্তভাবে, সেখানে ব্যর্থতার চিত্র দেখা গেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালে।
৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে পর্তুগাল। ম্যাচে বড় ধরনের ব্যর্থতা এসেছে পর্তুগিজ অধিনায়ক রোনালদোর কাছ থেকেও। পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থাকলেও কোনো শট নিতে পারেননি তিনি, যা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ভালো ছিল পর্তুগালের জন্য। মাত্র ৬ মিনিটেই জোয়াও নেভেসের গোলে এগিয়ে যায় দলটি। তবে সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি তারা। প্রথমার্ধেই সমতা ফেরায় ডিআর কঙ্গো।
দ্বিতীয়ার্ধে সেড্রিক বাকাম্বুর একটি শট পোস্টে না লাগলে পর্তুগাল হারও দেখতে পারত। পুরো ম্যাচে আক্রমণ থাকলেও ফিনিশিংয়ে ছিল স্পষ্ট দুর্বলতা।
রোনালদোর পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তাকে বদলি না করার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন কোচ রবার্তো মার্টিনেস। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলদাতাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার কোনো যুক্তি তিনি দেখেন না।
মার্টিনেস বলেন, “আমরা ক্রিশ্চিয়ানোকে তার বয়স দিয়ে বিচার করি না, তার প্রস্তুতি ও অনুভূতি বিবেচনা করি। এমন ম্যাচে গোলের জন্য বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকারকে মাঠে রাখাই স্বাভাবিক।”
পর্তুগাল কোচ আরও বলেন, বিশ্বকাপের শুরুতে এমন ফল অস্বাভাবিক নয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ হার এবং ২০১০ সালে স্পেনের শুরুতে হারের কথা উল্লেখ করেন।
এদিকে রোনালদোর আন্তর্জাতিক গোলখরা আরও দীর্ঘ হয়েছে। টানা ১০ ম্যাচে কোনো গোল না পাওয়ায় সমালোচনাও বাড়ছে। অনেকের মতে, বয়সের কারণে তার প্রভাব কমে গেছে, তবে কোচ সেই মত মানতে নারাজ।
মার্টিনেস বলেন, দল শুরুতে ভালো খেললেও গোল করার পরই ছন্দ হারায়। প্রতিপক্ষকে পাল্টা আক্রমণের সুযোগ দেওয়ায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় পর্তুগাল।
এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ পর্বে চাপের মুখে পড়েছে পর্তুগাল, আর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একটাই নাম—ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
Leave a Reply