বাংলাদেশে সন্তান ধারণে সমস্যায় ভোগা দম্পতির সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন প্রজননস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।জি বাংলা টেলিভিশন এর একটি গভেষনায় দেখা যায় যে, চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে, এর পেছনে একক কোনো কারণ নয়; বরং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, পরিবেশ দূষণ, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাত্রার পরিবর্তন, হরমোনজনিত রোগ, বংশগত (জিনগত) কারণ এবং পুরুষ ও নারীর উভয়ের স্বাস্থ্যগত সমস্যা সম্মিলিতভাবে ভূমিকা রাখছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্তমানে নারীদের মধ্যে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS), থাইরয়েডের সমস্যা, ডিম্বস্ফোটনে অনিয়ম এবং অন্যান্য হরমোনজনিত রোগ আগের তুলনায় বেশি শনাক্ত হচ্ছে। এসব সমস্যা স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমিয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে বংশগত কারণও প্রজননক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, অতিরিক্ত ওজন, অপুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, পরিবেশ দূষণ এবং কিছু রাসায়নিকের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ নারী-পুরুষ উভয়ের প্রজননস্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে কোনো একক কারণকে বাংলাদেশের অধিকাংশ বন্ধ্যাত্বের জন্য দায়ী করা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেশের কিছু অঞ্চলে লবণাক্ততার বৃদ্ধি, নিরাপদ পানির সংকট এবং পরিবেশগত পরিবর্তন মাতৃস্বাস্থ্য ও প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলেও বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব বিষয় নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, এক বছর নিয়মিত অসুরক্ষিত দাম্পত্য জীবনের পরও সন্তান না হলে (এবং নারীর বয়স ৩৫ বছরের বেশি হলে ছয় মাসের মধ্যে) উভয় সঙ্গীরই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ বন্ধ্যাত্বের ক্ষেত্রে শুধু নারীর নয়, পুরুষের কারণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রজননস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
Leave a Reply