বিএনপিকে উদ্দেশ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যে পথে ‘আপা’ হেঁটেছিলেন, বিএনপিও এখন সেই পথেই হাঁটছে। তিনি বলেন, ওই পথের শেষ পরিণতি ভালো নয় এবং যারা সেই পথে হাঁটবেন, তাদেরও একসময় পালাতে হবে।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ায় কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী ও জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন হত্যার বিচার এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এ জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যে বিএনপির সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, একসময় বলা হতো—‘আমি পালাই না’, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পালাতে হয়েছে। তার ভাষ্য, যারা একই ধরনের রাজনৈতিক পথে হাঁটবেন, তাদেরও একই পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ কোনো দেশের খবরদারি বা আধিপত্য চায় না। তার দাবি, বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিতে চায় এবং কোনো ধরনের আধিপত্যবাদ মেনে নেওয়া হবে না।
জামায়াত আমির বলেন, তারা কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করবেন না। যতদিন বেঁচে থাকবেন, মাথা উঁচু করে মানুষের মতো বাঁচতে চান। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, রাজনৈতিক লড়াই চলছে এবং তা চলবে।
গণভোট প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণ গণভোটে তাদের মতামত দিয়েছে। সেই রায় অমান্য করলে রাজনৈতিকভাবে কেউ টিকে থাকতে পারবে না। জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য বা অপমান করে অতীতে কেউ দীর্ঘস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের সংস্কার করতে হবে, ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ করতে হবে এবং মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথ খুলে দিতে হবে। তা করা হলে বিরোধী দল হিসেবে তারা সরকারকে সহযোগিতা করবেন বলেও জানান।
ক্ষমতার স্থায়িত্ব নিয়েও সতর্ক করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ক্ষমতা কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়। আল্লাহ যাকে ক্ষমতায় বসান, আবার সময় হলে তাকেই ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে পারেন।
ফ্যাসিবাদকে কোনো নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে যুক্ত না করে একটি ‘ভাইরাস’ হিসেবে উল্লেখ করেন জামায়াতের আমির। তার ভাষায়, যে জায়গায় ফ্যাসিবাদ ভর করে, সেখানেই তা ফ্যাসিবাদী রূপ নেয়। একটি ফ্যাসিবাদী শক্তিকে সরিয়ে দেশের মানুষ আরেকটি ফ্যাসিবাদী শক্তি দেখতে চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, সেই সময়ে দেশের মানুষ বিভিন্নভাবে রাস্তায় নেমেছিল। প্রয়োজনে জাতির স্বার্থে আবারও রাজপথে নামার কথা জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, যারা অপরাধ করে, দখল-বাণিজ্য করে, নিরীহ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তোলে কিংবা নারীদের সঙ্গে অপরাধমূলক আচরণ করে, তারা কাপুরুষ। অপরাধী যে-ই হোক, এমনকি নিজের সন্তান হলেও তার পক্ষ নেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সবশেষে দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, দেশের শিশু, নারী, মা, যুবক ও বয়স্ক—সবাইকে নিরাপদ পরিবেশ দিতে হবে। একই সঙ্গে সব ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জনসমাবেশে তার বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল রাজনৈতিক সংস্কার, জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান, ক্ষমতার জবাবদিহি এবং দেশের মানুষের নিরাপত্তার বিষয়।
Leave a Reply