মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে ভারতের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন আসামিদেরও দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। এ সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে ভারতের কাছে অনুরোধ জানানো হয়।
বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করে বিষয়টি জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়টি বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য ভারতের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ আশা করছে, এ বিষয়ে ভারত ইতিবাচকভাবে এগিয়ে আসবে।
ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে খলিলুর রহমান বলেন, সন্দেহভাজন হত্যাকারীরা ধরা পড়েছে এবং ভারত যেসব কাগজপত্র চেয়েছিল, সেগুলো দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর উল্লেখ করে হত্যাকারীদের যত দ্রুত সম্ভব দেশে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দেড় মাস আগে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এটিই ছিল ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর প্রথম সাক্ষাৎ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহায়ক পরিবেশ তৈরির ওপর বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সাক্ষাতে সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে এসব বিষয় প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে বিস্তারিত আলোচনার বিষয় নয় বলেও মন্তব্য করেন খলিলুর রহমান।
৫ আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের প্রতি বাংলাদেশের অসন্তোষের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান আগেই স্পষ্ট করা হয়েছে এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বলে তাকে জানানো হয়েছে।
শেখ হাসিনার বক্তব্য ও বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা প্রসঙ্গে খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের একটি আদালত তাকে দণ্ড দিয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থন বা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ আদালতেই রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রতি বিদ্বেষ ছড়িয়েছেন এবং ভারত সরকার তাকে সে সুযোগ দিয়েছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতি সব দেশের শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে আলোচনায় তিনি কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছেন এবং আশা করছেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠান বা স্তম্ভকে খাটো করার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।
দুই দেশের সম্পর্ক কবে স্বাভাবিক হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, তিনি গণক নন, তাই নির্দিষ্ট সময় বলা তার পক্ষে সম্ভব নয়।
Leave a Reply