মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিষয়ক সামরিক ক্ষমতা সীমিত করতে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। বিলটিতে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ৫০-৪৮ ভোটে বিলটি পাস হয়। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসও একই প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। ফলে মার্কিন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুদ্ধসংক্রান্ত এমন একটি প্রস্তাব কংগ্রেসের উভয় কক্ষে পাস হলো।
বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও দলটির চারজন সদস্য দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে বিলটির পক্ষে ভোট দেন। তারা হলেন বিল কাসিডি, লিসা মুরকোস্কি, সুসান কলিন্স এবং র্যান্ড পল। অন্যদিকে অধিকাংশ ডেমোক্র্যাট সদস্যও বিলটির পক্ষে অবস্থান নেন।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিলটি পাস হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতে ভেটো দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে এটি আপাতত রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বিলটির সমর্থনে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র বিভ্রান্তি, বিশৃঙ্খলা এবং ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তিনি এই যুদ্ধকে আমেরিকার জন্য একটি ঐতিহাসিক ভুল বলেও উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর জেমস রিশ বিলটির বিরোধিতা করে বলেন, এটি পাস হলে আন্তর্জাতিক আলোচনায় প্রেসিডেন্টের অবস্থান দুর্বল হবে এবং ইরান পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে।
বিলটিতে ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করে মার্কিন বাহিনীকে প্রত্যাহারের নির্দেশনা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের ওপর আসন্ন হামলার আশঙ্কা থাকলে সীমিত সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এদিকে রয়টার্স ও ইপসোসের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধকে যৌক্তিক বলে মনে করেন। ফলে যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন রাজনীতি ও জনমতের মধ্যে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ এই বিল এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে সবার নজর কেন্দ্রীভূত করেছে।
Leave a Reply