সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ চতুর্পক্ষীয় আলোচনা শেষে হরমুজ প্রণালী নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটির আলোচক দলের প্রধান মোহাম্মদ বাকের কলিবফ বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনেই হরমুজ প্রণালী ইরানের ব্যবস্থাপনার আওতায় থাকবে এবং ইরানের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কলিবফ বলেন, অনেকেই মনে করেন সামরিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্র একে অপরের বিপরীত। কিন্তু বাস্তবে এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।
তার ভাষায়, যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত যেকোনো সাফল্যের প্রকৃত মূল্য তখনই পাওয়া যায়, যখন সেটি রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে স্বীকৃতি পায় এবং দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকে। কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ছাড়া সামরিক বিজয় কখনোই পূর্ণতা পায় না।
ইরানের এই শীর্ষ আলোচক আরও বলেন, অনেক সময় সামরিক ক্ষেত্র এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করে, যার বাস্তবায়ন ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার দায়িত্ব নেয় কূটনৈতিক অঙ্গন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আলোচনা ও দরকষাকষিও সংগ্রামেরই একটি অংশ। তাই সামরিক এবং কূটনৈতিক কার্যক্রমকে পরস্পরবিরোধী হিসেবে দেখানো বিভ্রান্তিকর এবং বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানির বড় একটি অংশ এই জলপথ দিয়েই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে। ফলে এ প্রণালী নিয়ে ইরানের অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
চতুর্পক্ষীয় বৈঠকের পর ইরানের এই বক্তব্যকে তেহরানের কৌশলগত অবস্থানের পুনরায় ঘোষণা হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। একই সঙ্গে সামরিক শক্তি ও কূটনৈতিক তৎপরতার সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়ে ইরান ভবিষ্যৎ নীতিরও একটি ইঙ্গিত দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় হরমুজ প্রণালী এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে পরবর্তী কূটনৈতিক অগ্রগতির দিকে নজর রাখছে।
Leave a Reply