বিগত সরকারের আমলে চুরি ও পাচার হওয়া বিপুল অর্থ ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, অতীতে যারা জনগণের অধিকার হরণ করেছে এবং গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করেছে, তারা এখন বিভিন্ন কৌশলে আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।
রিজভী বলেন, যারা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তারা এখন নানা উপায়ে সমাজ ও রাষ্ট্রে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে জনগণ তাদের সেই চেষ্টা সফল হতে দেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হয়েছে। জনগণের রায়ের ভিত্তিতে গঠিত এই সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের জাল বোনা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, অতীতের দুঃশাসনের সময় বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন, গুম ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। অসংখ্য রাজনৈতিক কর্মীকে হয়রানি করা হয়েছে। সেই পরিস্থিতি আবার ফিরে আসুক, জনগণ তা কখনোই চাইবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভীর ভাষ্য, বর্তমানে দেশ উন্নয়ন, শান্তি ও গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেটিকে নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যের কারণে সেই অপচেষ্টা সফল হবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, শুধু আজ নয়, প্রতিদিন সজাগ থাকতে হবে। কারণ দেশবিরোধী ও সার্বভৌমত্ববিরোধী নানা বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
সমাবেশে রিজভী জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সব ধরনের অশুভ তৎপরতা প্রতিহত করতে হবে।
Leave a Reply