১৯৩৪ সালের পর দীর্ঘ ৯২ বছর অপেক্ষার অবসান। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে মিসর। রাউন্ড অব ৩২-এর নাটকীয় লড়াইয়ে টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে নতুন ইতিহাস লিখেছে মোহাম্মদ সালাহর দল।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মিসর। এর ফলও আসে দ্রুত। ম্যাচের ১৩তম মিনিটে ইমান আশুরের দারুণ এক হেডে এগিয়ে যায় আফ্রিকার সাতবারের চ্যাম্পিয়নরা।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় অস্ট্রেলিয়া। তবে প্রথমার্ধে মিসরের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫তম মিনিটে ভাগ্য সহায় হয় সকারুজদের। মিসরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানির আত্মঘাতী গোলে ১-১ সমতায় ফিরে অস্ট্রেলিয়া।
এরপর নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও আর কোনো দল গোল করতে পারেনি। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারে শুরুতেই চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম শটেই হ্যারি শুটারের বল বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপর চতুর্থ শটেও ব্যর্থ হন লুকাস হেরিংটন।
অন্যদিকে মিসরের হয়ে মাহমুদ সাবের, রামি রাবিয়া, মোহাম্মদ সালাহ এবং আবদেল মাজিদ—চারজনই সফলভাবে বল জালে পাঠান। ফলে পঞ্চম শট নেওয়ার প্রয়োজনই হয়নি। ৪-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ইতিহাস গড়ে মিসর।
ম্যাচের পরিসংখ্যানও ছিল মিসরের পক্ষেই। পুরো ম্যাচে ৫৮ শতাংশ বলের দখল ধরে রাখে তারা। ১৪টি শটের মধ্যে ৪টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া ১৬টি শট নিলেও লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে মাত্র একটি।
চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরা মোহাম্মদ সালাহ ছিলেন পুরো ম্যাচজুড়েই দুর্দান্ত। একের পর এক আক্রমণ তৈরি করার পাশাপাশি টাইব্রেকারেও ঠান্ডা মাথায় চিপ শটে গোল করেন লিভারপুল তারকা। ম্যাচ শেষে গ্যালারিভর্তি দর্শকদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন তিনি এবং মাথায় পরেন মিসরীয় ফারাওয়ের প্রতীকী মুকুট।
১৯৩৪ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলতে নেমে সরাসরি শেষ ষোলো নিশ্চিত করল মিসর। আগামী ৭ জুলাই আটলান্টায় শেষ ষোলোর ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা।
Leave a Reply