মুন্সীগঞ্জে তীব্র স্রোতে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে পদ্মা নদীর ভাঙন। নদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে ভাঙনে একের পর এক নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বসতভিটা, স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে সদর উপজেলার রাকিরকান্দি এলাকায়। সেখানে মাদানী কমপ্লেক্স মাদ্রাসার ইমাম আবু হানিফা জামে মসজিদটি রাতের আঁধারে পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে।
শুক্রবার রাতে ওই মসজিদে এশার নামাজ আদায় করে মুসল্লিরা বাড়ি ও মাদ্রাসায় ফিরে যান। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর ফজরের নামাজ পড়তে এসে তারা দেখেন, মসজিদটির আর কোনো অস্তিত্ব নেই। বর্তমানে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঠে নামাজ আদায় করতে হচ্ছে।
রোববার সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি, রাকিরকান্দি ও পূর্বরাখী এলাকায় দেখা যায়, নদীর তীব্র স্রোতে আগের বালুর বস্তার প্রতিরোধব্যবস্থার বড় অংশ ধসে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড নতুন করে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছে। তবে স্রোতের তীব্রতায় অস্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে। নদীর পানি বাড়লেও এখনো তা বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
এদিকে টঙ্গিবাড়ীর বানারী এলাকাতেও চলছে ভাঙন। নদীতে বিলীন হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মিয়া বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের ভাঙনে বহু পরিবার এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। মাদানী কমপ্লেক্স রক্ষায় তারা দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
রোববার বিকেলে ভাঙনকবলিত দেওয়ানকান্দি এলাকা পরিদর্শন করেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের এমপি কামরুজ্জামান রতন ও জেলা প্রশাসক নুর মহল আশরাফী। এ সময় ভাঙনরোধে বালুর বস্তা ফেলে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। জেলা প্রশাসক জানান, ভাঙনের হুমকিতে থাকা প্রায় ৪০০ মিটার এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের নিয়ে কাজ চলছে।
Leave a Reply