ইরানকে কোনোভাবেই বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য করা যাবে না বলে কঠোর মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো, খাদ্য সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর মার্কিন হামলার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক লড়াই করতে চায়, তাহলে তাদের ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখোমুখি হওয়া উচিত। কিন্তু সামরিক সংঘাতের নামে কেন বেসামরিক স্থাপনা, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার ওপর আঘাত করা হচ্ছে—সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
পেজেশকিয়ান বলেন, আমেরিকানরা যদি নিজেদের যোদ্ধা মনে করে, তাহলে তাদের ইরানের বীর সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি লড়াই করা উচিত। বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর প্রয়োজন কী—এমন প্রশ্নও করেন তিনি।
ইরানের প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। সংঘাতের প্রভাব শুধু সামরিক স্থাপনা বা যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করছে তেহরান।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাস করে, তাহলে ইরানের সাধারণ মানুষকে পানি, খাদ্য ও ওষুধের মতো মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিস থেকে বঞ্চিত করার প্রশ্নই আসে না।
তার ভাষায়, একটি দেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে গিয়ে যদি সেই দেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হয়, তাহলে সেটিকে কীভাবে মানবিক নীতি হিসেবে বিবেচনা করা যায়—এটাই এখন বড় প্রশ্ন।
এদিকে মার্কিন চাপ ও নিষেধাজ্ঞা নিয়েও কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা কিংবা সামরিক হুমকি—কোনোটিই ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারবে না।
পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের জনগণকে বশ্যতা স্বীকার করানো যাবে না। তার দাবি, ইরান চাপের কাছে মাথা নত করবে না এবং আত্মসমর্পণও করবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানের বক্তব্য ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। একই সঙ্গে বেসামরিক জনগণের ওপর সংঘাতের প্রভাবকে সামনে এনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে চাইছে তেহরান।
তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়বে কি না এবং শেষ পর্যন্ত কোনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি হবে কি না—সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
একদিকে ওয়াশিংটনের চাপ অব্যাহত রাখার অবস্থান, অন্যদিকে তেহরানের আত্মসমর্পণ না করার ঘোষণা—দুই পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বার্তা অবশ্য পরিষ্কার—সামরিক চাপ কিংবা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরানের জনগণকে বশ্যতা স্বীকার করানো সম্ভব নয়। ইরান আত্মসমর্পণ করবে না।
তথ্যসূত্র: প্রেসটিভি।
Leave a Reply