ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে হুতি বিদ্রোহীদের বিভিন্ন অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির বিমানবাহিনী। শুক্রবার ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, মোখা ও ধুবাব এলাকায় হুতিদের সামরিক অবস্থান, যানবাহন ও অস্ত্রের মজুত লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়।
ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর সরকারি মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ আবদুল্লাহ আল-নুজাইলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, মোখা বন্দরের কাছে এবং মোখা শহরের জায়েদ আল-খারজ বিপণিবিতানের আশপাশে হুতিদের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি যানবাহন ও অস্ত্র ধ্বংস এবং হুতি সদস্যদের হতাহতের দাবি করা হয়েছে।
মোখা শহরের পানি প্রকল্প প্রশাসনের পাশের একটি অবস্থান এবং মোখা-ধুবাব সড়কের একটি পশু কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রের কাছে জড়ো হওয়া হুতিদের যানবাহন ও যোদ্ধাদেরও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে দাবি ইয়েমেনি সামরিক বাহিনীর।
এ ছাড়া মোখার উত্তর রিং রোডে এক সাবেক সামরিক কমান্ডারের পুরোনো সদর দফতরে হুতিদের সমাবেশ লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে এসব হামলায় মোট কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। হুতিদের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইয়েমেনে সাম্প্রতিক এই হামলা দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানাসহ দেশের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরবর্তীতে হুতিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেন সরকারের পক্ষে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট যুদ্ধে নামে।
প্রায় এক যুগের সংঘাতে বিপুল প্রাণহানি ও ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হলেও ২০২২ সালের পর লড়াইয়ের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে কমে আসে। তবে স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান এখনও হয়নি।
এদিকে ২০২৩ সালের শেষদিকে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হুতিরা ইসরায়েল ও লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে আঞ্চলিক সংঘাতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররাও ইয়েমেনে বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
ফলে মোখা ও ধুবাবের মতো কৌশলগত উপকূলীয় এলাকায় নতুন করে সামরিক তৎপরতা বাড়ায় ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের পাশাপাশি লোহিত সাগরের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
দীর্ঘদিনের মানবিক সংকটে থাকা ইয়েমেনে লড়াই আবার পূর্ণমাত্রায় ছড়িয়ে পড়লে বেসামরিক জনগণের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। এখন নজর, হুতি ও সরকারি বাহিনীর সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়।
Leave a Reply