বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হওয়ার পর তার দায়িত্ব গ্রহণ এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সম্ভাব্য গতিপথ নিয়ে নজর রাখছে ভারতীয় গণমাধ্যম।
ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য সুখবর নয়। কারণ, শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে ছিলেন এবং ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছাড়েন।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনার সরকারের সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়া মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে নিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন। এর ফলে শেখ হাসিনা তার একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মিত্রকে হারিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি।
অন্যদিকে, নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শেখ হাসিনার দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে বিএনপির রাজনৈতিক আন্দোলনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। সরকারি চাকরিতে বৈষম্য এবং তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওই আন্দোলন গড়ে উঠেছিল।
এবার মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলেও আলোচনায় এসেছে।
বিশেষ করে ভারত সম্পর্কে মির্জা ফখরুলের অতীত অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছে হিন্দুস্তান টাইমস।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মির্জা ফখরুল অতীতে ভারতের বিরুদ্ধে বেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ভারতের প্রতি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।
প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের একটি ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। লন্ডনে বিএনপির একটি জনসভায় মির্জা ফখরুল ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা এবং অন্যান্য বাংলাদেশি মিশনের বাইরে ভারতীয়দের বিক্ষোভের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বলে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া শেখ হাসিনার প্রতি ভারত সমর্থন দিয়েছে—মির্জা ফখরুলের এমন অভিযোগের কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে হিন্দুস্তান টাইমস।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ চলতি বছর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে মির্জা ফখরুলের অবস্থানও তুলে ধরা হয়েছে।
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, গঙ্গা চুক্তি বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। তাই বাংলাদেশের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে ভারত সরকারের চুক্তিটি কার্যকর করার বিষয়টি নিশ্চিত করা উচিত বলে তিনি মত দিয়েছেন।
ফলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, সেটি নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে সীমান্ত, পানি বণ্টন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক—এসব বিষয়ে নতুন রাষ্ট্রপতির অবস্থান ও সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে মির্জা ফখরুল কী ধরনের ভূমিকা রাখবেন, তা সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে।
Leave a Reply