শুক্রবার ২১ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বঙ্গভবনের দরবার হলে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান। এছাড়া সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এর একদিন আগে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয় দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমদ।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। তাদের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
সংসদ সদস্যরা সাদা কাগজে কালো কালিতে ছাপা ব্যালট পেপারের মাধ্যমে গোপনীয়ভাবে ভোট দেন। ভোটগ্রহণের জন্য সংসদ অধিবেশন কক্ষে তিনটি নির্ধারিত ব্যালট বাক্স রাখা হয়েছিল।
ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা করা হয়। পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচনি কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন ফলাফল ঘোষণা করেন।
ফলাফলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
এরপর নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে সেই নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো। এখন থেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেশের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
Leave a Reply