কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির ময়নাতদন্ত আজ বৃহস্পতিবার হওয়ার কথা রয়েছে। ময়নাতদন্তসহ ভারতে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর মরদেহ দেশে ফেরানোর অপেক্ষায় রয়েছেন নিহতদের স্বজন ও সহকর্মীরা।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন, তাঁদের তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর আকরাম হোসেন। এ ছাড়া নিহত হয়েছেন ঢাকার সাভারের আহমেদ বাবু, সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের আলিমুজ্জামান সাজু ও রেবতী সরকার।
অগ্নিকাণ্ডের পর নিহতদের মরদেহ কলকাতা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে। দেবাশীষের আত্মীয় ও ভারতের মালদহের বাসিন্দা কৃষ্ণ নন্দী জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র পাওয়ার পর ময়নাতদন্ত শুরু হবে। মরদেহসংক্রান্ত কাগজপত্র নিউমার্কেট থানায় পাঠানো হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর অনুমতিপত্র পাওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতে মরদেহসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে বাংলাদেশি স্বজনদের সীমান্তে আসতে বলা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ তাঁদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দেবাশীষের বাড়িতে স্বজনদের অপেক্ষা যেন শেষ হচ্ছে না। ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতির মরদেহের অপেক্ষায় রয়েছেন দেবাশীষের বাবা দিলীপ দত্ত। তাঁর স্ত্রী স্বপ্না দত্তও ছেলেকে শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
বাড়িতে থাকা দেবাশীষের সাত বছরের মেয়ে মহিমা দত্ত এখনো ঘটনার গভীরতা পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেনি। স্বজনদের ভিড়ের মধ্যেও তাকে বাড়ির সামনে খেলতে দেখা গেছে।
দেবাশীষের সহকর্মীরা বলছেন, এখন তাঁদের অপেক্ষা শুধু মরদেহ দেশে ফেরার। শেষবারের মতো প্রিয় সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের মুখ দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।
জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভারতে যান দেবাশীষ দত্ত। বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা শেষে প্রায় ১৩ দিন পর সোমবার রাতে তাঁরা কলকাতায় ফেরেন। মঙ্গলবার আত্মীয়স্বজনের জন্য কেনাকাটা করেন। বুধবার তাঁদের দেশে ফেরার কথা থাকলেও তার আগেই ঘটে যায় মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড।
Leave a Reply