মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলমান পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে রাশিয়া ও চীন এখন পর্যন্ত ইরানকে সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন না। তবে ভবিষ্যতে যদি এই দুই দেশ ইরানের পক্ষে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে, তাহলে সেটি তাদের জন্য ‘খুবই খারাপ’ হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, সম্প্রতি বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আশ্বাস পেয়েছেন যে, চীন বা কোনো চীনা প্রতিষ্ঠান ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করবে না।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও তাকে জানিয়েছেন যে, মস্কো ইরানের কাছে কোনো অস্ত্র বিক্রি করবে না। তার ভাষ্য, পুতিন জানেন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইউক্রেনকে নয়, বরং ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মাধ্যমে সহায়তা দিয়ে থাকে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমানে রাশিয়া ও চীন—দুই দেশই ইরানকে সমর্থনের ক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে জড়িত নয়। তবে তারা যদি ভবিষ্যতে এ সংঘাতে সরাসরি অংশ নেয়, তাহলে সেটি তাদের নিজেদের জন্যই ক্ষতিকর হবে।
পরে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমি জানি না তারা ইরানকে সহায়তা করছে কি না। তবে আমি মনে করি, আমি তাদের বিশ্বাস করি।”
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। চলতি সপ্তাহে সিনেটে এক শুনানিতে তিনি বলেন, রাশিয়া ও চীন বিভিন্নভাবে ইরানকে সহায়তা করছে। যদিও কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
এদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করছে, রাশিয়া ইরানকে লক্ষ্য নির্ধারণসংক্রান্ত তথ্য বা ড্রোন প্রযুক্তি সরবরাহ করেছিল কি না। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ক্রেমলিন।
ইতোমধ্যে ইরানকে অস্ত্র সংগ্রহে সহায়তার অভিযোগে রাশিয়া ও চীনের কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চে রাশিয়া ইরানকে স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহ করেছিল, যাতে তারা মার্কিন সেনাদের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করতে পারে।
Leave a Reply