সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরাকের এরবিলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামোর ‘প্রায় পুরোটাই’ ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে দেশটি জানিয়েছে, আরাশ-২ ড্রোনের চেয়েও উন্নত, দূরপাল্লার এবং অধিক ধ্বংসাত্মক নতুন প্রজন্মের ড্রোন এখন তাদের সামরিক সক্ষমতায় যুক্ত হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বক্তব্যে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা আকরামিনিয়া বলেন, সাম্প্রতিক হামলায় ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক ও গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তার দাবি, অনেক ঘাঁটিই এখন আগের মতো কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা হারিয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ইরাকের এরবিলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামোর প্রায় সম্পূর্ণ অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। পাশাপাশি সেখানে অবস্থানরত ইরানবিরোধী গোষ্ঠীগুলোরও এখন কার্যকর সামরিক অভিযান চালানোর সক্ষমতা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আকরামিনিয়া বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি দক্ষিণ ইউরোপ ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলজুড়েও যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। সাম্প্রতিক ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ওয়াশিংটন নতুন করে সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংঘাত পুনরায় শুরু হলে ইরান সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত বলেও সতর্ক করেন ইরানি সেনাবাহিনীর এই মুখপাত্র। তার ভাষায়, যতদিন যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসনের মাধ্যমে ইরানের ওপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে, ততদিন ইরানের প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।
বক্তব্যে তিনি আরও জানান, ৪০ দিনের সংঘাতে ইরান আরাশ-২ ড্রোন ব্যবহার করলেও বর্তমানে আরও উন্নত প্রযুক্তির নতুন ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে। এসব ড্রোন আগের তুলনায় বেশি নির্ভুল, অধিক দূরপাল্লার এবং আরও ধ্বংসাত্মক ক্ষমতাসম্পন্ন বলে দাবি করেন তিনি। তবে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নতুন ড্রোনগুলোর প্রযুক্তিগত বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ইরানের এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply