বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করলেও রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হননি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, শেখ হাসিনা রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।
সোমবার রাজধানীর নীলক্ষেতের আইসিএমএ ভবন অডিটোরিয়ামে ‘মহীয়সী বেগম খালেদা জিয়া—ঐক্য, সংহতি ও আলোকিত দ্বীপ’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী।
অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও সংগ্রামের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা প্রতিহিংসার কারণে খালেদা জিয়াকে পরিত্যক্ত একটি কারাগারে বন্দি করে রেখেছিলেন। তার অভিযোগ, কারাগারে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও খাবারের যথাযথ ব্যবস্থা করা হয়নি এবং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার মতো পরিবেশও ছিল না।
রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করলেও রাজনীতিতে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে শেখ হাসিনা পরাজিত হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রিজভী বলেন, তার জীবনকাল, শাসনামল, বেড়ে ওঠা, নেতৃত্ব এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পাশাপাশি তার ওপর চালানো নিপীড়ন-নির্যাতনের ইতিহাস অল্প সময়ে তুলে ধরা সম্ভব নয়।
তিনি খালেদা জিয়াকে একজন ক্ষণজন্মা রাজনৈতিক নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন। এ সময় মার্কিন লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, মানুষ মৃত্যুবরণ করতে পারে, কিন্তু পরাজিত হয় না।
রিজভীর ভাষ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার প্রেরণা, অর্জন, কৃতিত্ব এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে থাকবে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কীভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের মাধ্যমে তিনি তা দেখিয়ে গেছেন বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।
অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুরুত্ব নিয়েও বক্তব্য দেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, রাজনীতির খোরাক হচ্ছে সংস্কৃতি। রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংস্কৃতিচর্চা না থাকলে সেই দলের নেতারা আলোকিত হতে পারেন না।
একজন রাজনৈতিক নেতার মধ্যে ভালো ছবি দেখার অনুপ্রেরণা, গান-কবিতার প্রতি ভালোবাসা এবং চিত্রকলা বোঝার মতো মানসিকতা থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এসব গুণ না থাকলে কেউ হয়তো শক্তিশালী বা প্রভাবশালী হতে পারেন, কিন্তু ভালো রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক সঞ্জয় দে রিপনের সভাপতিত্বে এবং শামীম রাব্বি সঞ্চয়ের পরিচালনায় বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও শিল্পী অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার, ডা. জহুরুল হক, বিএনপি নেতা শিপন খানসহ অন্যরা।
বক্তারা বইটির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম ও অবদানের বিভিন্ন দিক নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন।
Leave a Reply