দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসার পর তার বেতন, রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
‘দ্য প্রেসিডেন্টস রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ’ আইনে রাষ্ট্রপতির বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এই বেতন আয়করমুক্ত।
তবে রাষ্ট্রপতির সুবিধা শুধু বেতনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন, সরকারি গাড়ি ও পরিবহন সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। বঙ্গভবনের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যয়ও রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা হয়।
রাষ্ট্রপতির জন্য রয়েছে স্বেচ্ছাধীন তহবিলও। এ তহবিলে বছরে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকে। রাষ্ট্রপতির বিবেচনায় বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দিতে এই অর্থ ব্যয় করা যায়।
চিকিৎসার ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্যরা বিশেষ সুবিধা পান। দেশের যেকোনো হাসপাতালে তারা বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সেই ব্যয়ও সরকার বহন করার বিধান রয়েছে।
বিদেশ সফরের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতি সরকার নির্ধারিত হারে ভাতা পান। পাশাপাশি বিমানভ্রমণের জন্য বছরে ২৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিশেষ সুবিধা রয়েছে।
অর্থাৎ মাসিক বেতনের বাইরে সরকারি বাসভবন, গাড়ি, পরিবহন, চিকিৎসা, বিদেশ সফর, আপ্যায়ন ও বিমানভ্রমণসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তবে রাষ্ট্রপতির গুরুত্ব শুধু এসব সুযোগ-সুবিধায় নয়, তার সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যেও রয়েছে।
সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির বিশেষ সাংবিধানিক ভূমিকা রয়েছে।
এ ছাড়া সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ড মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করতে পারেন।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও রয়েছে সাংবিধানিক দায়মুক্তি। তার কার্যকাল চলাকালে তার বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা করা যায় না এবং তাকে গ্রেপ্তার বা কারাগারে পাঠানোর জন্য পরোয়ানাও জারি করা যায় না।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তবে উত্তরাধিকারী দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বর্তমান রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে বহাল থাকতে পারেন।
Leave a Reply