ডারউইনে শুরু থেকেই যেন চালকের আসনে ছিল বাংলাদেশ। সময় যত গড়িয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইগারদের অবস্থান হয়েছে আরও শক্ত। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এলো—অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার তাদেরই হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ।
৯ উইকেটের এই জয় শুধু একটি ম্যাচের জয় নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটে যোগ হলো নতুন এক ইতিহাস।
সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল, তবে সেই প্রত্যাশার সঙ্গে ছিল ভয়ও। কারণ বাংলাদেশ ক্রিকেটের দর্শকদের কাছে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ যেন খুব কমই আসে। অতীতের নানা ম্যাচের অভিজ্ঞতা বারবার মনে করিয়ে দেয়—জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত গল্পটা বদলে যেতে পারে।
মুলতান টেস্টে ইনজামামের সেই ঘটনা, ফতুল্লায় রিকি পন্টিংয়ের প্রতিরোধ কিংবা চট্টগ্রামে কাইল মেয়ার্সের অবিশ্বাস্য ইনিংস—এমন অনেক স্মৃতি বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে গেঁথে আছে। তাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় যখন হাতের মুঠোয়, তখনও অনেকের মনে প্রশ্ন ছিল—শেষ পর্যন্ত কি সত্যিই হবে?
এবার কিন্তু গল্পটা বদলায়নি। বরং বাংলাদেশই গল্পের শেষটা লিখেছে নিজের মতো করে।
অবিশ্বাস্য হওয়ার আরও একটি কারণ আছে। মাত্র দুই মাস আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ও ৮৫ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের একাদশের সাতজনই ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক জয় পাওয়া দলে।
এরপর প্রস্তুতি ম্যাচেও ইনিংস ব্যবধানে হারের ধাক্কা ছিল। সেই একই দল কীভাবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চার দিন ধরে আধিপত্য বিস্তার করে জয় তুলে নেবে—ম্যাচের আগে হয়তো খুব কম মানুষই তা ভেবেছিলেন।
অস্ট্রেলিয়াও যে এই ফলের জন্য প্রস্তুত ছিল না, সেটার একটা চিত্র পাওয়া যায় মারারা স্টেডিয়ামের ভিআইপি লাউঞ্জে। ম্যাচ তিন দিনেই শেষ হয়ে যেতে পারে—এমন ধারণায় অনেকেই চতুর্থ দিনের জন্য ভিআইপি লাউঞ্জের টিকিট পর্যন্ত কাটেননি। অথচ সেই চতুর্থ দিনেই ইতিহাসের সাক্ষী হলো ডারউইন।
সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয়, জয়ের আগে বাংলাদেশের পক্ষে বাজির দর ছিল প্রায় ১-২০।
কিন্তু সেই অসম্ভবের হিসাব উল্টে দিয়ে বাংলাদেশ দেখিয়ে দিল—ক্রিকেটে কাগজের হিসাব নয়, মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ কথা।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশের এই জয় তাই শুধু স্কোরবোর্ডের একটি ফল নয়; এটি আত্মবিশ্বাস, লড়াই আর বিশ্বাস ফিরে পাওয়ার এক অসাধারণ মুহূর্ত।
Leave a Reply