কাতারে আটক তিন ইরানি পাইলটের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির কাছে চিঠি দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান বিষয়ক কমিটি।
পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান বিষয়ক কমিটির প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইয়্যেদ মোহাম্মদ বাকেরজাদে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির প্রেসিডেন্ট মারিয়ানা স্পোলিয়ারিচকে এ চিঠি দেন।
চিঠিতে তিনি গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ইরানের দাবি, বৈধ আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে দেশটির বিমানবাহিনী কাতারে শত্রুপক্ষের ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়।
ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২ মার্চ দুটি সুখোই-২৪ যুদ্ধবিমান কাতারের সামরিক লক্ষ্যবস্তুর দিকে যায়। ফেরার পথে চার পাইলটের মধ্যে তিনজন বিমান থেকে ইজেক্ট করে কাতারে আটক হন। তারা হলেন জাওয়াদ সালেহি, আবদুল মজিদ দাশতিয়ানি ও ইমরান বেহরুশিয়ান। অপর পাইলট মাজিদ কাজেমি নিহত হন বলে জানানো হয়েছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা দাবি করেন, পাইলটদের আটকের পর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও তাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্য কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎ বা যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বাকেরজাদে অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় কাতার সরকার জেনেভা কনভেনশনের কয়েকটি বিধান লঙ্ঘন করেছে। তৃতীয় জেনেভা কনভেনশনের ৭০ ও ৭৮ নম্বর ধারার উল্লেখ করে তিনি আটক ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, নিজেদের পরিস্থিতি জানানোর সুযোগ, অভিযোগ জানানোর অধিকার এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার কথা তুলে ধরেন।
চিঠির শেষাংশে আটক তিন পাইলটের শারীরিক ও স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বাকেরজাদে। একই সঙ্গে দ্রুত তাদের সঙ্গে রেড ক্রসের প্রতিনিধিদের সাক্ষাতের ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যগত অবস্থার প্রতিবেদন এবং মুক্তির উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তবে ইরানের এসব অভিযোগের বিষয়ে কাতার কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
Leave a Reply