1. jewelislambln78@gmail.com : জুয়েল হোসেন : জুয়েল হোসেন
  2. 01404006688bd@gmail.com : জুলিয়া জাহান : জুলিয়া জাহান
  3. admin@channelgbangla.com : admin :
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন

ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি ট্রাম্পের, শান্তিচুক্তির আশাবাদও

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৭ বার পঠিত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ইরান ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির পথে এগোনো হবে, নাকি দেশটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এ বিষয়ে তাকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রায় ৩৭ মিনিটের বক্তব্য দেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষণের বড় একটি অংশজুড়ে ছিল ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি।

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকাতেই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ঠেকানোই ছিল এই সংঘাতের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

এরপর ইরান নিয়ে নিজের সামনে থাকা দুটি সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি হতে পারে, যার মাধ্যমে দেশটি আবার অর্থনৈতিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে শক্তিশালী হয়ে উঠবে। অন্যদিকে চুক্তি না হলে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ‘অ্যানিহিলেট’ বা সম্পূর্ণ ধ্বংস করার হুমকিও দেন তিনি।

ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি মনে করেন শেষ পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে। তাঁর ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই এ বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে। তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তাঁর প্রশাসন এখনো চাপ ও সামরিক শক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করছে।

এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যের সময় জাতিসংঘের অধিবেশনকক্ষে ইরানের প্রতিনিধিদলের একজন সদস্যকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। ফলে তাঁর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

তবে ইরানের পক্ষ থেকেও কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কে থাকা ইরানি প্রতিনিধিদল আলোচনার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত এবং তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ কমানো ও অবরোধ প্রত্যাহারের শর্তে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছে।

জাতিসংঘের মঞ্চে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতাদের সঙ্গে তাঁর প্রশাসন ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং এই যুদ্ধেরও সমাধান করা হবে।

ট্রাম্পের ভাষ্য, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান অনেকের ধারণার চেয়েও দ্রুত হতে পারে। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেননি।

এদিকে ইরান ও ইউক্রেনের পাশাপাশি ট্রাম্প তাঁর ভাষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন। তাঁর প্রায় ৩৭ মিনিটের বক্তব্যে বিশ্বের বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির ওপর জোর দেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে, জাতিসংঘের মঞ্চে ট্রাম্পের এবারের বক্তব্যে ইরান ইস্যুই ছিল অন্যতম প্রধান আলোচ্য। একদিকে কঠোর সামরিক হুমকি, অন্যদিকে নির্বাচনের পর সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির আশাবাদ—দুই ধরনের বার্তাই দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছায়, নাকি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2026
Design By Raytahost