জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার—জেআইসি, যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত, সেখানে এক-এগারোর সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
শনিবার দুপুরে ডিজিএফআই সদর দপ্তরে থাকা জেআইসি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ দাবি করেন।
ন্যায়বিচারের স্বার্থে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচারক, প্রসিকিউশন ও সংশ্লিষ্টদের একটি প্রতিনিধিদল এদিন জেআইসি পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালে দেওয়া সাক্ষীদের বর্ণনা এবং তাদের তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক-এগারোর সময় তারেক রহমানকে জেআইসির একটি কক্ষে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, এই পরিদর্শন বিচারপ্রক্রিয়ারই একটি অংশ। এখানে মানুষকে ধরে এনে গোপনে বন্দি রাখা এবং তাদের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে সেই সময়ের নির্মম পরিস্থিতির কিছুটা অনুভব করা গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আমিনুল ইসলাম জানান, এই গোপন বন্দিশালায় অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমীসহ বহু মানুষকে বছরের পর বছর বন্দি রাখা হয়েছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
তার দাবি, ২০০৭-০৮ সালের এক-এগারোর সময়ও এই জেআইসির একটি কক্ষে তারেক রহমানকে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দেশে যেন এ ধরনের টিএফআই, জেআইসি বা ‘আয়নাঘর’ প্রতিষ্ঠিত না হয়, সে বিষয়ে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান চিফ প্রসিকিউটর।
তিনি বলেন, কোনো নাগরিক অপরাধ করলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। কিন্তু কোনো ব্যক্তিকে যেন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হতে না হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে অযথা হয়রানি বা নির্যাতনের শিকার হতে না হয়—এটাই নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে এসব গোপন বন্দিশালা প্রতিষ্ঠার অভিযোগও তোলেন আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা এবং ভিন্নমতের মানুষদের গুম করে এসব বন্দিশালায় আটকে রাখা হতো বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। এমন অনেক গুমের শিকার ব্যক্তির এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, টিএফআই ও জেআইসিতে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার চলছে। এসব ঘটনায় জড়িত অনেক কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে তদন্তে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদেরও আইনের মুখোমুখি করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে জেআইসি পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে গোপন বন্দিশালায় কথিত গুম ও নির্যাতনের অভিযোগসংক্রান্ত বিচারপ্রক্রিয়ায় আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে প্রসিকিউশন।
তবে তারেক রহমানকে নির্যাতনের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্যটি সাক্ষীদের বর্ণনা ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা একটি দাবি—এটি সংশ্লিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়াতেই যাচাই হওয়ার বিষয়।
Leave a Reply