বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের জয়ের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি ছিল লিওনেল মেসিকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা। ‘মেসিকে থামাও, আর্জেন্টিনাও থেমে যাবে’—এই পরিকল্পনাই সফলভাবে বাস্তবায়ন করে লা রোজা।
প্রথমার্ধে মেসির পায়ে বল আসে মাত্র ১৫ বার, যা গত তিনটি বিশ্বকাপে প্রথমার্ধে তার সর্বনিম্ন বল স্পর্শের রেকর্ড। ম্যাচের শুরুতে কিক-অফের পাস ছাড়া প্রথম ১৫ মিনিটে তার আর কোনো কার্যকর অবদান ছিল না।
পুরো ম্যাচজুড়ে বলের দখল ধরে রেখে এবং বল হারানোর সঙ্গে সঙ্গেই তীব্র প্রেসিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত বল পুনরুদ্ধার করে স্পেন। ফলে আর্জেন্টিনার আক্রমণের মূল ভরসা মেসির কাছে বল পৌঁছানোর পথই প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি স্পেনের প্রেসিংকে তুলনা করেছেন ‘পানির নিচে দম বন্ধ হয়ে আসার অনুভূতির’ সঙ্গে। মেসি বল পেলেই দুই বা তিনজন স্প্যানিশ খেলোয়াড় তাকে ঘিরে ফেলেন, ফলে তিনি কোনোভাবেই খেলার ছন্দে ফিরতে পারেননি।
স্পেনের রক্ষণভাগও অনেকটা ওপরে উঠে খেলায় মাঠের কার্যকর জায়গা ছোট করে দেয়। ম্যাচের শুরুতেই একবার সুযোগ পেলেও গোলরক্ষক উনাই সিমনের দ্রুত সিদ্ধান্তে সেই আক্রমণ ভেস্তে যায়।
শেষ পর্যন্ত মেসিকে বিচ্ছিন্ন রাখতে সফল স্পেন অতিরিক্ত সময়ে ফেররান তোরেসের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে নিজেদের ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা নিশ্চিত করে।
Leave a Reply