দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর আবারও প্রকাশ্যে এসেছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির প্রধান জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি। প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্যের প্রস্তুতির সময় তাকে প্রকাশ্যে দেখা গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, তেহরানে আয়োজিত একটি বৈঠকে খামেনির কফিনের পাশে বসে রয়েছেন আহমাদ ওয়াহিদি। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানী তেহরানে খামেনির পুরোনো বাসভবনের কাছে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে তিনি অংশ নেন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম প্রকাশ্যে দেখা গেল আইআরজিসির এই শীর্ষ কমান্ডারকে। এরপর থেকেই তিনি জনসমক্ষে অনুপস্থিত ছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা আলোচনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন ওয়াহিদি। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের অন্যতম তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ওই হামলায় আহত হন মোজতবা খামেনি। এরপর থেকেই তিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বর্তমানে আহমাদ ওয়াহিদি আইআরজিসির সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় আগের প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হওয়ার পর তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়।
আইআরজিসির সঙ্গে ওয়াহিদির সম্পর্ক কয়েক দশকের। ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে তিনি এই বাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৮০-এর দশকে গোয়েন্দা ও সামরিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৮ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি আইআরজিসির অভিজাত কুদস ফোর্সের প্রধান ছিলেন। পরে সেই দায়িত্ব পান কাসেম সোলেইমানি, যিনি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হন।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় আয়াতুল্লাহ খামেনি তাকে আইআরজিসির উপপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। এরপর যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বাহিনীর নেতৃত্ব তার হাতেই আসে।
সামরিক জীবনের পাশাপাশি ইরানের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন আহমাদ ওয়াহিদি। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং প্রয়াত প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার অন্যতম কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ওয়াহিদি। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে তার প্রকাশ্যে ফিরে আসাকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামরিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
Leave a Reply