মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ইসরায়েলের এক শীর্ষ মন্ত্রীর বক্তব্যে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা এবং প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই চিকলি দাবি করেছেন, আজ হোক বা কাল—ইসরায়েলকে সিরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতেই হবে।
সম্প্রতি একাধিক রেডিও সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন ‘উগ্র সুন্নি অক্ষ’ গড়ে উঠছে বলেও দাবি করেন এই ইসরায়েলি মন্ত্রী।
চিকলি সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকারকে লক্ষ্য করে বলেন, এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যাদের আদর্শ আইএস ও আল-কায়েদার মতো সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে তিনি মনে করেন, তারা কখনোই ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাস করবে না।
ইসরায়েলের আর্মি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং কাতারকে নিয়ে গঠিত একটি নতুন জোট এখন ইরানের চেয়েও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পেছনে পাকিস্তান ও তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আর এটিকে তিনি ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন।
কাতারের সমালোচনা করে চিকলি বলেন, দেশটি মূলত বিভিন্ন জিহাদি গোষ্ঠীর জনসংযোগ বা প্রচারযন্ত্র হিসেবে কাজ করছে।
তিনি আরও দাবি করেন, পাকিস্তান ভারতের এবং তুরস্ক গ্রিস ও সাইপ্রাসের প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র। অথচ এই দেশগুলো ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র। তাই তুরস্ক, কাতার ও পাকিস্তানের সমন্বয়কে তিনি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
সম্প্রতি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়িপ এরদোয়ান অভিযোগ করেছিলেন, সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড তুরস্কের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। এর জবাবে চিকলি বলেন, তুরস্ক সিরিয়ায় নিজেদের একটি প্রভাব বলয় গড়ে তুলেছে, যা তার দৃষ্টিতে ইরানের চেয়েও বেশি উদ্বেগজনক।
তুরস্ককে ঘিরে এমন অবস্থান নতুন নয়। গত কয়েক সপ্তাহে লিকুদ পার্টির আরও কয়েকজন নেতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও তুরস্ককে নতুন ইরান হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে চলা আঞ্চলিক সংঘাতের পর ভবিষ্যতে শান্তির সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আমিচাই চিকলি বলেন, তিনি দীর্ঘমেয়াদি শান্তির কোনো লক্ষণ দেখছেন না। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস হামলার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, শত্রুর ঘোষিত উদ্দেশ্যকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
Leave a Reply