1. 01404006688bd@gmail.com : জুলিয়া জাহান : জুলিয়া জাহান
  2. admin@channelgbangla.com : admin :
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন

নিজেও শিশু, তবু সন্তানের জন্য আদালতে লড়লেন ১৩ বছরের মা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬
  • ২০ বার পঠিত

মাত্র ১৩ বছর বয়স। নিজেও এখনও একজন শিশু। অথচ সেই কিশোরীই এখন এক সন্তানের মা। দীর্ঘ আড়াই মাস সন্তানের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর অবশেষে আদালতের নির্দেশে নিজের সাত মাস বয়সী শিশুকে ফিরে পেয়েছেন জুঁই।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ফেসবুকে পরিচয়ের পর প্রায় দুই বছর আগে জুঁইয়ের সঙ্গে শাকিল ওরফে শাকিব মিয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে তাদের বিয়ে হয় বলে উভয় পক্ষের দাবি। বর্তমানে শাকিলের বয়স ২২ বছর।

জুঁই অভিযোগ করেন, সন্তান জন্মের পর তাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়। তবে সাত মাস বয়সী শিশুকে নিজের কাছে রেখে দেয় স্বামী ও শাশুড়ি। সন্তানকে ফিরে পেতে গত ১ জুলাই ঢাকার চিফ লিগ্যাল এইড অফিসে আবেদন করেন তিনি।

নির্ধারিত তারিখে অভিযুক্তরা হাজির না হওয়ায় আদালতের নির্দেশে চকবাজার থানা পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে। পরে মঙ্গলবার উভয় পক্ষকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে চিফ লিগ্যাল এইডের বিচারক মো. সায়েম খান শিশুটিকে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন।

শুনানিকালে বিচারক জুঁইকে প্রশ্ন করেন, “এটা কি তোমার সন্তান?” জবাবে জুঁই বলেন, “হ্যাঁ, আমার ছেলে।” সন্তানকে ফিরে পেয়ে কেমন লাগছে—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “অনেক খুশি।”

এ সময় বিচারক মন্তব্য করেন, প্রথম দিন জুঁইকে দেখে তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি যে এত ছোট একটি মেয়ের নিজের সন্তান থাকতে পারে। তিনি বলেন, “সে নিজেও তো একটি শিশু।”

অন্যদিকে, শাকিল আদালতে দাবি করেন, জুঁই স্বেচ্ছায় তার সঙ্গে গিয়েছিলেন এবং তাকে জোর করে আটকে রাখা হয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, জুঁই স্বেচ্ছায় সন্তানকে রেখে চলে গিয়েছিলেন। তবে জুঁইয়ের পরিবার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং পরে বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

জুঁইয়ের আইনজীবী আদালতে বলেন, কিশোরীকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক কাগজপত্রে স্বাক্ষর করানো হয় এবং পরে সন্তান জন্মের পর তাকে শিশুকে ছাড়া বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। সেই কারণেই আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

শুনানি শেষে আদালত মানবিক দিক বিবেচনায় আপাতত শিশুটিকে মায়ের কাছেই রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির দিনও নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঘটনাটি আবারও সামনে এনেছে বাল্যবিয়ে, অনলাইন পরিচয়ের ঝুঁকি এবং শিশু সুরক্ষার বিষয়টি। আইন অনুযায়ী বাল্যবিয়ে দণ্ডনীয় অপরাধ। পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজের আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Download Photocard

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2026
Design By Raytahost