ওমান উপসাগরে ইরানের একটি তেলবাহী ট্যাংকার ডুবে গেছে। আর এই ট্যাংকারটি যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ডুবে যাওয়ার দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
ডুবে যাওয়া ট্যাংকারটির নাম এম/টি কায়লো। হামলার পর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকারটি ধীরে ধীরে সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক ইউনিট সেন্টকম।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার কায়লোসহ ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায় মার্কিন সেনারা।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড তাদের একটি যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছিল। এর জবাবেই ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
রোববার সকালে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এম/টি কায়লো পানিতে ভারসাম্য হারিয়ে ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছে।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সেন্টকম দাবি করেছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও নিখুঁত অভিযানের কারণেই ইরানের এম/টি কায়লো ওমান উপসাগরে ডুবে গেছে।
শুধু তাই নয়, সেন্টকম আরও দাবি করেছে, সমুদ্রের নিচে থাকা ইরানের নৌবাহিনীর সঙ্গে যোগ দিয়েছে এই ট্যাংকার।
অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সরাসরি জানানো হচ্ছে—ইরানের সামরিক ও নৌ সক্ষমতার ওপর ধারাবাহিক আঘাতের অংশ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ওয়াশিংটন দাবি করে আসছে, ইরানের নৌবাহিনীকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলা হয়েছে এবং তাদের বেশিরভাগ যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস বা ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নতুন করে কায়লো ডুবে যাওয়ার ঘটনাকেও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে তুলে ধরছে সেন্টকম।
তবে পরিস্থিতি এখানেই থেমে নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডও পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে।
ইরানের দাবি, তারা যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি যুদ্ধজাহাজ এবং অনুমতিবিহীন রুটে চলাচলকারী আরও তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
এই হামলাগুলো হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হিসেবে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অনেক বেশি। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক সংঘাত যত বাড়ছে, ততই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
বিশেষ করে ইরানের তেলবাহী জাহাজে হামলা এবং পাল্টা হিসেবে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তবে ইরানের নতুন হামলার দাবি নিয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফলে একদিকে ইরানের তেলবাহী ট্যাংকার ডুবিয়ে দেওয়ার দাবি করছে যুক্তরাষ্ট্র, অন্যদিকে পাল্টা হামলার কথা জানাচ্ছে ইরান।
এখন প্রশ্ন হলো—ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই পাল্টাপাল্টি হামলা কি আরও বড় সামরিক সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে?
আর যদি সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে এর প্রভাব শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি পুরো মধ্যপ্রাচ্য এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে?
পরিস্থিতির দিকে এখন নজর রাখছে পুরো বিশ্ব।
Leave a Reply