মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সাম্প্রতিক পারমাণবিক চুক্তি। এই চুক্তিকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের আশঙ্কা, এটি ভবিষ্যতে পুরো অঞ্চলে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার পথ খুলে দিতে পারে।
চুক্তির আওতায় মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সৌদি আরবে পারমাণবিক রিয়্যাক্টর নির্মাণ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দেওয়া হবে। যদিও এটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তবুও সমালোচকদের মতে ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি অস্ত্র তৈরির সক্ষমতায় রূপ নিতে পারে।
চুক্তিটি এখনও কার্যকর হয়নি। এটি বাস্তবায়নের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই জেরুজালেমে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার সরকারের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। এই নীরবতার মধ্যেই বিরোধী নেতারা সরকারের কঠোর সমালোচনা শুরু করেছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেছেন, সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দেওয়া হলে তা ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় কৌশলগত ব্যর্থতা হবে। তার ভাষায়, এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক প্রতিযোগিতার সূচনা করতে পারে।
একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগডোর লিবারম্যান। তিনি দাবি করেন, তথাকথিত বেসামরিক কর্মসূচি একসময় পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই তিনি মার্কিন কংগ্রেসে এই চুক্তির বিরুদ্ধে জোরালো লবিং করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলকে দীর্ঘদিন ধরেই একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও দেশটি কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে স্বীকার বা অস্বীকার করেনি। ফলে সৌদি আরবের পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের সম্ভাবনাকে ইসরায়েল তাদের কৌশলগত সামরিক প্রাধান্যের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছে।
উল্লেখ্য, এই চুক্তি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকে শুরু করে জো বাইডেন প্রশাসনের সময়ও আলোচনা চলেছিল। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু বিস্তার রোধে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার আপত্তির কারণে এতদিন তা বাস্তবায়ন হয়নি।
এখন প্রশ্ন একটাই—এই চুক্তি কি শুধু শান্তিপূর্ণ জ্বালানি কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন পারমাণবিক প্রতিযোগিতার সূচনা করবে? সেই উত্তরই এখন খুঁজছে বিশ্ব।
Leave a Reply