মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। ‘অপারেশন সায়েকেহ’-এর ১৯তম ধাপে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, ‘অপারেশন সায়েকেহ’ বা ‘বজ্রপাত’ অভিযানের ১৯তম ধাপে কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অন্যায় আচরণ’ এবং ‘বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের’ জবাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, হামলায় কুয়েতের আরিফজান ঘাঁটির প্রশাসনিক ভবন ও দিকনির্ণয় অ্যান্টেনা, আল-উদেয়রি ক্যাম্পের হেলিকপ্টার পার্কিং এলাকা এবং আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের আবাসন লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
আরিফজান ঘাঁটিকে দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন স্থলবাহিনীর অন্যতম প্রধান কমান্ড ও লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে আল-উদেয়রি ক্যাম্পে অপাচে, চিনুক ও ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার মোতায়েন রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। এছাড়া আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ অভিযান ও সামরিক রসদ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ইরানের সেনাবাহিনী আরও দাবি করেছে, মার্কিন সামরিক উপস্থিতির কারণেই এই অঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে। তাদের ভাষ্য, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তারা মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে এই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
Leave a Reply