বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা উচ্চ বিদ্যালয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে ব্যাকডেট দেখিয়ে নিয়োগ, অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন কয়েকজন শিক্ষিত বেকার চাকরিপ্রার্থী।
লিখিত অভিযোগে আবেদনকারীরা উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর দৈনিক করতোয়া পত্রিকায় প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে তারা কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর, অফিস সহায়ক ও নিরাপত্তাকর্মী পদে আবেদন করেন। পরবর্তীতে একই পদে আরও কয়েক দফা পুনঃনিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে তারাও পুনরায় আবেদন করেন। তবে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির মধ্যে বিরোধের কারণে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।
আরও পড়ুন,
অভিযোগে বলা হয়, নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হলেও আবেদনকারীদের জমা দেওয়া ব্যাংক ড্রাফটের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি তারা জানতে পারেন, অবসর গ্রহণের আগে বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম গোপনে ব্যাকডেট দেখিয়ে তিনটি পদে নিয়োগ সম্পন্ন করেছেন। আবেদনকারীদের দাবি, কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে নাফিউল ইসলাম (তোহা) অথবা মানিক, অফিস সহায়ক পদে নোমান খলিফা এবং নিরাপত্তাকর্মী পদে রাসেলকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরে এসব নিয়োগ এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে বলে তারা অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
আরও পড়ুন,
তাদের ভাষ্য, নিয়োগের জন্য কোনো লিখিত, মৌখিক কিংবা ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তাদের দেওয়া হয়নি। এমনকি এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগও করা হয়নি। ফলে ২০২৩ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া ২০২৬ সালে কীভাবে সম্পন্ন হলো, তা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, সাবেক প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়ম, চেক জালিয়াতি এবং অর্থের বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারীরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, নিয়োগটি বন্ধ রয়েছে। আশপাশের মানুষ অযথা এসব কথা বলছে। এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তারিকুল আলম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। অভিযোগের তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply