ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। শনিবার রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে শুরু হয় এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং ইরানের আধা সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানীর গ্র্যান্ড মোসাল্লা এবং আশপাশের সড়কগুলো মানুষের ঢলে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিপুল মানুষের চাপ সামাল দিতে গ্র্যান্ড মোসাল্লার দরজা খুলে দেওয়া হয়। সকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষ সেখানে প্রবেশ করতে শুরু করেন।
এদিকে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতে তেহরানের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনের বাইরে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, শোকের পোশাক পরা অসংখ্য মানুষ স্টেশনের বন্ধ গেটের সামনে অপেক্ষা করছেন। দরজা খোলার পর তারা দ্রুত অনুষ্ঠানস্থলের দিকে রওনা হন।
খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, দুই শীর্ষ নেতা খামেনির কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সেই ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এরপর তার স্মরণে সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন কর্মসূচি ঘোষণা করে ইরান সরকার।
তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেক মোতামাদিয়ান জানিয়েছেন, পুরো অনুষ্ঠানকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, এই শোকানুষ্ঠানে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি, কূটনীতিক এবং বিদেশি অতিথিরাও অংশ নিয়েছেন।
ইরান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তেহরানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে খামেনির মরদেহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং প্রতিবেশী ইরাকের শিয়া পবিত্র নগরীগুলোতে নেওয়া হবে। সবশেষে তার জন্মস্থান মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হবে।
Leave a Reply