প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্পের আওতায় ১৯ কোটি টাকা বরাদ্দের পরও বান্দরবান জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে জেলাজুড়ে। স্থানীয় মুসল্লি ও সামাজিক সংগঠনগুলো বলছে, এ নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বরদাস্ত করা হবে না এবং অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে কাজ শুর দাবি জানাচ্ছেন তারা।
কী ঘটেছে বান্দরবানে?
২০২৫ সালের ৬ জুলাই ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এফ এম খালিদ হোসেন মেঘলা পর্যটন সংলগ্ন এলাকায় মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই কমপ্লেক্সে থাকবে এয়ার-কন্ডিশন, নারী-পুরুষের আলাদা অজু-নামাজের স্থান, লাইব্রেরি, গবেষণা কেন্দ্র, মক্তব, হজ প্রশিক্ষণ, ইমাম প্রশিক্ষণ ও অটিজম সাপোর্ট সেন্টারসহ আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা।
কিন্তু ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরও জমি শনাক্ত হওয়ার পরও জেলা প্রশাসনের অবহেলা ও গাফিলতির কারণে নির্মাণ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ পিসিএনপি। সংগঠনটির দাবি, ডিসেম্বরের মধ্যেই ১৯ কোটি টাকার বরাদ্দ ফেরত যেতে পারে।
এমপি বলেছিলেন ‘শীঘ্রই শুরু হবে’
গত ২৫ মার্চ ২০২৬ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বান্দরবান-৩০ আসনের এমপি সাচিং প্রু জেরী জানিয়েছিলেন, জেলা মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ শীঘ্রই শুরু হচ্ছে এবং জেলা প্রশাসক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তার সেই আশ্বাসের ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও মাঠে কাজের অগ্রগতি দেখা যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি
পিসিএনপি’র সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান কাজী মোঃ মজিবর রহমান বলেন, “জেলা মডেল মসজিদ নির্মাণ নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বরদাস্ত করা হবে না। অবিলম্বে মডেল মসজিদ নির্মাণের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বান্দরবানে কোনো ধরনের অরাজক পরিস্থিতি কাম্য নয়”
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই প্রকল্প বাস্তবায়নে এমপি সাচিং প্রু জেরী, সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা আফম খালিদ ও জেলা প্রশাসনসহ সকলের ভূমিকা ছিল। এটি শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়, ইসলামিক শিক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।
জেলা প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি চান স্থানীয়রা
স্থানীয় তৌহিদি জনতার প্রশ্ন, সরকারি বরাদ্দ থাকার পরও কেন কাজ থেমে আছে? জেলা প্রশাসক দ্রুত বিষয়টি স্পষ্ট করবেন এবং কাজ শুর তারিখ ঘোষণা করবেন এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
শেষ কথা
বান্দরবানবাসী চান, প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হোক। ধর্মীয় মূল্যবোধ, শিক্ষা ও পর্যটনের নতুন দিগন্ত খুলে দিক এই মডেল মসজিদ।
Leave a Reply