মালয়েশিয়া ও চীনে প্রায় এক সপ্তাহের সরকারি সফর শেষে দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে চীনের রাজধানী বেইজিং থেকে তাকে বহনকারী বিশেষ বিমান ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। রাত ৮টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরা উপলক্ষে বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা, সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
গত ২১ জুন মালয়েশিয়া সফরের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সরকারি বিদেশ সফর শুরু হয়। এরপর তিনি চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সামার দাভোস-২০২৬ সম্মেলনে অংশ নেন। সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশন শেষে তিনি বেইজিংয়ে পৌঁছে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
বেইজিংয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও শিল্প সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, যা বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া সফরের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিনিয়োগ সম্মেলনে বক্তব্য দেন এবং চীনের বিভিন্ন বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিএনপি এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া চীনের পানি সম্পদমন্ত্রী ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে তিস্তা প্রকল্পসহ গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
সফর শেষে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার মাধ্যমে এই বহুল আলোচিত সরকারি সফরের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সফরের অর্জন ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
Leave a Reply