ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শেষ বিদায়ের ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। শনিবার সকালে তেহরানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির সূচনা হয় বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
সকাল থেকেই রাজধানীর গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে ঢল নামে হাজার হাজার শোকাহত মানুষের। খামেনির মরদেহ সেখানে পৌঁছানোর আগেই পুরো প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
শোকাহতদের অনেকের হাতে ছিল লাল পতাকা, যা ইরানে প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এ সময় ‘আমেরিকার ধ্বংস হোক’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’—এমন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর অনেক আগেই হাজার হাজার মানুষ গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন। বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
অনেক মানুষ কয়েক কিলোমিটার হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনের সামনে ভোর থেকেই দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করছেন হাজারো মানুষ, যেন তারা জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন।
ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান কয়েক দিন ধরে চলবে। তেহরানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে খামেনির মরদেহ ইরাকে নেওয়া হবে, যেখানে আরও একটি বিদায় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী জন্মস্থান মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই শোকানুষ্ঠান শুধু একটি রাষ্ট্রীয় আয়োজন নয়, বরং ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আগত অনুসারীরাও এতে অংশ নিচ্ছেন।
খামেনির শেষ বিদায়কে কেন্দ্র করে তেহরান এখন পরিণত হয়েছে লাখো মানুষের শোক, আবেগ ও শ্রদ্ধা নিবেদনের কেন্দ্রে।
Leave a Reply