এই বাসের চালক ও হেলপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নারীরাই। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এলাকা থেকে নগরের ফ্রি পোর্ট হয়ে পতেঙ্গা পর্যন্ত চলাচল করবে বাস দুটি। পথে ১২টি নির্ধারিত পয়েন্টে যাত্রী ওঠানামা করবেন।
মঙ্গলবার বেলা ১২টায় নগরের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এলাকায় বেলুন উড়িয়ে এ বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়। রাজধানীর পাশাপাশি চট্টগ্রামেও এই বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করা হলো। দুটি বাস নিয়ে চট্টগ্রামের কালুরঘাট-বহদ্দারহাট-জিইসি-আগ্রাবাদ-ফ্রিপোর্ট-পতেঙ্গা রুটে শুরু হলো বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ কার্যক্রম। বাস দুটির চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নারীরা।
ফলে নগরীর দক্ষিণাংশের কালুরঘাট থেকে বন্দর ও পতেঙ্গা এলাকার কর্মজীবী নারী, শিক্ষার্থীসহ নারী যাত্রীদের জন্য সরাসরি গণপরিবহন সুবিধা তৈরি হলো।বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, বাস দুটির রুট হবে—কালুরঘাট, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, লালখান বাজার, টাইগারপাস, দেওয়ানহাট, চৌমুহনী, আগ্রাবাদ, বারেক বিল্ডিং, ফ্রি পোর্ট, কাটগড় হয়ে পতেঙ্গা।
কালুরঘাট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত পুরো রুটের দূরত্ব প্রায় ২৭ কিলোমিটার। এ পথে সর্বোচ্চ ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮ টাকা। কালুরঘাট থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা পর্যন্ত প্রাথমিক ভাড়া ১০ টাকা। এরপর দূরত্ব অনুযায়ী বিভিন্ন গন্তব্যে ভাড়া বাড়বে।এই সার্ভিসের আওতায় দুটি বাস কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করে নগরের ফ্রি পোর্ট ও পতেঙ্গা এলাকায় যাবে। নির্ধারিত ১২টি স্টপেজে বাস দুটি থামবে। ফলে রুটের বিভিন্ন এলাকার নারী যাত্রীরা নির্দিষ্ট পয়েন্ট থেকে বাসে উঠতে ও নামতে পারবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার জিয়াউদ্দিন, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মাসুদ আলমসহ বিআরটিসির কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কর্মজীবী নারী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারীদের গণপরিবহনে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের সুযোগ তৈরি করাই এই বিশেষ বাস সার্ভিসের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে বাসের চালক ও হেলপার হিসেবে নারীদের নিয়োগ দেওয়ায় পরিবহন খাতে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
চট্টগ্রাম নগরে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক নারী গণপরিবহনে চলাচল করেন। ভিড়, আসনসংকট ও নিরাপত্তাজনিত বিভিন্ন সমস্যার কারণে তাঁদের অনেক সময় ভোগান্তিতে পড়তে হয়। নারী চালক ও হেলপার পরিচালিত পৃথক বাস সার্ভিস চালুর ফলে এসব সমস্যা কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রাথমিকভাবে দুটি বাস দিয়ে সার্ভিসটি শুরু করা হলেও যাত্রীদের চাহিদা ও কার্যক্রমের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এর পরিধি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
Leave a Reply