1. jewelislambln78@gmail.com : জুয়েল হোসেন : জুয়েল হোসেন
  2. 01404006688bd@gmail.com : জুলিয়া জাহান : জুলিয়া জাহান
  3. admin@channelgbangla.com : admin :
প্রীতি গ্রুপে বিস্ফোরণের পর তিতাসের চিঠি; ব্যত্যয় হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি - Channel G Bangla
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন

প্রীতি গ্রুপে বিস্ফোরণের পর তিতাসের চিঠি; ব্যত্যয় হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি

মোঃ মোস্তাফিজার রহমান আকাশ , সাভার, ঢাকা
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫০ বার পঠিত

 

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার জামগড়ায় প্রীতি গ্রুপের কারখানা চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যান ও লরিতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির পর অনুমোদনহীন পদ্ধতিতে পরিবহন করা যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় সিএনজি স্টেশনগুলো। একই সঙ্গে সিএনজি স্টেশনগুলোকে এ ধরনের যানবাহনে গ্যাস না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সিএনজি অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক তানভীর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বাংলাদেশ সিএনজি অ্যাসোসিয়েশনের উত্তরা, আশুলিয়া, নবীনগর, বাইপাইল ও চন্দ্রা জোনের জোনাল সভাপতি এবং বাইপাইলে অবস্থিত টিএস সিএনজি রিফুয়েলিং অ্যান্ড কনভার্সন লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী।

তানভীর রহমান বলেন, তিতাস আগে কাগজে-কলমে নিষেধ করলেও মৌখিকভাবে গ্যাস দিতে বলেছিল। কিন্তু কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় শেষ পর্যন্ত আমাদের ওপরই আসে। তাই আমরা আর এ ধরনের ঝুঁকির মধ্যে থাকতে চাই না।

তিনি বলেন, প্রীতি গ্রুপের ঘটনার পর আশুলিয়া অঞ্চলের তিতাস কার্যালয় থেকে সিএনজি স্টেশনগুলোকে পুনরায় চিঠি দিয়ে অনুমতিহীন সিলিন্ডারবাহী যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে একই ধরনের নির্দেশনা না থাকলে শুধু উত্তরা-আশুলিয়া এলাকায় এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে পুরোপুরি সুফল পাওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তানভীর রহমানের ভাষ্য, এক অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকলেও এসব কাভার্ড ভ্যান ও লরি অন্য অঞ্চলের সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস সংগ্রহ করতে পারে। ফলে সারাদেশে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও নজরদারি প্রয়োজন।

তিতাস গ্যাসের আশুলিয়া জোনাল বিক্রয় অফিসের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবু ছালেহ মুহাম্মদ খাদেমুদ্দীন বলেন, আমরা আগেও তাদের সতর্ক করেছি, এখনো করছি। প্রীতির ঘটনার পর আবারও সিএনজি স্টেশনগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর ব্যত্যয় হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিতাস আগে কেন ব্যবস্থা নেয়নি- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে দেখার বিষয়। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতা নেওয়া হবে।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সিএনজি স্টেশনগুলো মনিটরিংয়ের দায়িত্ব মূলত তিতাস ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের। এসব দপ্তর প্রশাসনিক সহযোগিতা চাইলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

গত রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা এলাকায় প্রীতি গ্রুপের একটি কারখানা চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যান ও লরিতে বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় সিলিন্ডার ও ধাতব বিভিন্ন অংশ ছিটকে আশপাশের কারখানা, বাসাবাড়ি ও দোকানে গিয়ে পড়ে। এতে হতাহতের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থাপনা ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও দুজনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ জনে। নিহতদের মধ্যে বিস্ফোরণের সময় আশপাশে থাকা পথচারী ও সিলিন্ডার পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

ঘটনার পর সিলিন্ডার পরিবহন ও সরবরাহের অনুমোদিত পদ্ধতি, সিএনজি স্টেশনগুলোর নজরদারি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারাও প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের সূত্রপাত সিলিন্ডারবাহী লরি থেকে হয়ে থাকতে পারে।

এদিকে ঘটনার পর প্রীতি গ্রুপের কারখানা চত্বরে অননুমোদিত পদ্ধতিতে দাহ্য পদার্থ ব্যবহারের অভিযোগে পুলিশ মামলা করেছে। মামলায় কারখানার দায়িত্বশীল কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগের পর এখন দেখার বিষয়, অনুমোদনহীন পদ্ধতিতে সিলিন্ডার পরিবহন ও সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধে নির্দেশনা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2026
Design By Raytahost