কক্সবাজার শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্টিকার লাগানো একটি ল্যান্ড ক্রুজার থেকে ২৮ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওবায়দুল হাসান (৪১) নামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক এক ল্যান্স করপোরালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত বিলাসবহুল ল্যান্ড ক্রুজারটি।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ৩ নম্বর গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার ওবায়দুল হাসান বগুড়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাগুপাড়া এলাকার মৃত দেলোয়ার রহমানের ছেলে। তিনি ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। বর্তমানে তিনি গাজীপুরে বসবাস করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, একটি ল্যান্ড ক্রুজারে করে কক্সবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ঢাকার দিকে পাচার করা হচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হয়। রাত পৌনে ৯টার দিকে সন্দেহভাজন গাড়িটি চেকপোস্টে পৌঁছালে পুলিশ থামার সংকেত দেয়। কিন্তু চালক গাড়ি না থামিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ধাওয়া করে গাড়িটি জব্দ করে।
তল্লাশি চালিয়ে গাড়ির সিটের নিচে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ২৮ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮৪ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওবায়দুল হাসান দাবি করেন, বৃহস্পতিবার সকালে তিনি গাড়িটি নিয়ে কক্সবাজারে আসেন এবং রাতে ঢাকার উদ্দেশে ফিরছিলেন। তবে গাড়িতে ইয়াবা কীভাবে এসেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন।
ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, সেনাবাহিনীর স্টিকারযুক্ত গাড়ি ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৫ জুলাই কক্সবাজারের রামুতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো একটি প্রাইভেটকারে ইয়াবা পাচারের সময় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ওই গাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় ৬ হাজার ইয়াবা বড়ি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সোমেন মণ্ডল বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্টিকার ব্যবহার করে মাদক পাচারের কৌশল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
Leave a Reply