বিষয়: জামালপুর–ঢাকা রুটে রাজিব পরিবহনের যাত্রী হয়রানি, অনিয়ম ও একচেটিয়া ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন।
মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়,
আসসালামু আলাইকুম।
আপনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করে জামালপুর–ঢাকা রুটে চলাচলকারী রাজিব পরিবহনের দীর্ঘদিনের অনিয়ম, যাত্রী হয়রানি ও নিম্নমানের সেবার বিষয়ে কিছু বাস্তব চিত্র তুলে ধরছি।
জামালপুর রুটে দীর্ঘদিন ধরে রাজিব পরিবহন প্রায় একচেটিয়াভাবে যাত্রী পরিবহন করে আসছে। প্রতিযোগিতার অভাবে তারা যাত্রীদের প্রতি ন্যূনতম দায়িত্ববোধও দেখাচ্ছে না। ফলে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সম্প্রতি একজন যাত্রীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা পুরো সমস্যার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। তিনি ঢাকার মহাখালী কাউন্টার থেকে ঢাকা–দেওয়ানগঞ্জ রুটের টিকিট সংগ্রহ করেন। ছাত্র আন্দোলনের কারণে বাসটি দেরিতে উত্তরায় পৌঁছালেও এরপর দ্রুত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা না হয়ে আরও যাত্রী তোলার আশায় বিভিন্ন সড়ক ঘুরিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা সময় নষ্ট করা হয়।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, রাত প্রায় দেড়টায় জামালপুর পৌঁছানোর পর বাসের সুপারভাইজার ও চালক জানিয়ে দেন যে তারা আর দেওয়ানগঞ্জ যাবেন না। অথচ যাত্রীদের কাছ থেকে দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। গভীর রাতে অসুস্থ যাত্রীসহ প্রায় ১৫ জনকে জামালপুরে নামিয়ে দেওয়া হয়। নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর কোনো বিকল্প ব্যবস্থাও করা হয়নি। এটি শুধু দায়িত্বহীনতা নয়, বরং যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা ও অমানবিক আচরণের স্পষ্ট উদাহরণ।
দুঃখের বিষয়, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এই রুটের নিয়মিত যাত্রীরা প্রায়ই একই ধরনের হয়রানির শিকার হন। পুরো ভাড়া নেওয়ার পর মাঝপথে যাত্রী নামিয়ে দেওয়া, গেটলক সার্ভিসের নামে লোকাল বাসের মতো পথে পথে যাত্রী তোলা, সিটসংখ্যার চেয়ে অতিরিক্ত ২০–৩০ জন যাত্রী বহন করা, অপরিচ্ছন্ন ও পুরোনো সিট, এবং প্রতিবাদ করলে বাসের স্টাফদের মারমুখী আচরণ ও হুমকি—এসব যেন নিত্যদিনের ঘটনা।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, ভাড়া প্রায় এসি বাসের সমান হলেও সেবার মান অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ লোকাল বাসের চেয়েও নিম্নমানের।
এই রুটে উন্নতমানের বাসসেবার অভাব এবং রাজিব পরিবহনের দীর্ঘদিনের খামখেয়ালি অনিয়মের কারণে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে জামালপুর–ময়মনসিংহ–ঢাকা রুট এড়িয়ে টাঙ্গাইল হয়ে যাতায়াত করছেন। এতে যাত্রীদের অতিরিক্ত সময়, অর্থ ও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অথচ জামালপুর–ময়মনসিংহ–ঢাকা রুটে যদি হানিফ, শ্যামলী, এস আর, ইউনাইটেডসহ অন্যান্য স্বনামধন্য পরিবহন প্রতিষ্ঠান চলাচলের সুযোগ পেত, তাহলে যাত্রীরা নিরাপদ, আরামদায়ক ও মানসম্মত সেবা পেতেন এবং এই অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তির অবসান ঘটত।
মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়,
জামালপুরবাসী কি নিরাপদ, সম্মানজনক ও মানসম্মত বাসসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে না?
আপনার কাছে আমাদের বিনীত আবেদন—
রাজিব পরিবহনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক।
যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, মাঝপথে যাত্রী নামিয়ে দেওয়া এবং অসদাচরণের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
জামালপুর–ঢাকা রুটে হানিফ, শ্যামলী, এস আর, ইউনাইটেডসহ অন্যান্য স্বনামধন্য পরিবহন কোম্পানিকে চলাচলের অনুমতি দিয়ে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করা হোক।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মাধ্যমে এই রুটে নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করা হোক।
আমরা বিশ্বাস করি, আপনার আন্তরিক উদ্যোগ ও কার্যকর পদক্ষেপ হাজারো যাত্রীকে এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেবে। পাশাপাশি জামালপুর–ময়মনসিংহ–ঢাকা রুটে সুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হলে যাত্রীরা ন্যায্য ভাড়ায় নিরাপদ, আরামদায়ক ও মানসম্মত বাসসেবা পাবেন এবং টাঙ্গাইল হয়ে অতিরিক্ত পথ ঘুরে যাতায়াত করার প্রয়োজনও থাকবে না।
জামালপুরবাসীর পক্ষ থেকে আমাদের একটাই দাবি—যাত্রীদের অধিকার নিশ্চিত করুন, রাজিব পরিবহনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিন এবং এই রুটে হানিফ, শ্যামলী, এস আর, ইউনাইটেডসহ অন্যান্য মানসম্মত বাসসেবা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করুন।
বিনীত,
দেওয়ানগঞ্জ -জামালপুর -ময়মনসিং-ঢাকা রুটের ভুক্তভোগী যাত্রীবৃন্দ।
Leave a Reply