কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে বৈষম্যবিরোধী চেতনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের তীব্র অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসনের একাংশ ও স্বার্থান্বেষী মহলের এমন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে পদত্যাগ করেছেন এনসিপি-এর স্থানীয় শীর্ষ নেতা সজীব মিয়া। তার এই আকস্মিক পদত্যাগকে কেন্দ্র করে উপজেলার সাধারণ ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পদত্যাগের মূল কারণ ও অভিযোগসমূহ
পদত্যাগপত্র পেশ করার পর এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে সজীব মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, যে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ও ছাত্রসমাজ রক্ত দিয়েছে, ফুলবাড়ীতে সেই শক্তির পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। তার উত্থাপিত প্রধান অভিযোগগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন: গত ৫ই আগস্টের পর আত্মগোপনে থাকা এবং বিভিন্ন অনিয়মের সাথে জড়িত আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের একাধিক প্রভাবশালী নেতাকে গোপনে পুনর্বাসন ও আইনি সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
বিপ্লবের চেতনা অবমাননা: মাঠপর্যায়ে ত্যাগী ও আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদের অবমূল্যায়ন করে সুবিধাবাদীদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনিক অনিয়ম: স্থানীয় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, বাজার ইজারা এবং প্রশাসনিক তদারকিতে স্বচ্ছতার অভাব ও পুরোনো সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ”যে রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি, সেই স্বপ্নকে কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের অনিয়ম আর সমঝোতার রাজনীতির কারণে ভেস্তে যেতে দেওয়া যায় না। এর প্রতিবাদেই আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” — সজীব মিয়া, এনসিপি নেতা
ছাত্র-জনতার প্রতিক্রিয়া
সজীব মিয়ার পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ফুলবাড়ীর সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অনতিবিলম্বে ফুলবাড়ী উপজেলা প্রশাসনকে এই অনিয়ম ও পুনর্বাসনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে হবে। অন্যথায় সাধারণ ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
Leave a Reply