লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় সেমি-পাকা ঘর নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের পঞ্চম পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপে নির্মিত ৮৭৫টি ঘরের নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও অসম্পূর্ণ কাজের কারণে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুবিধাভোগীরা। বর্তমান সরকারের কাছে এসব প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত করে সুবিচারের দাবি তাদের।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কালীগঞ্জ উপজেলায় এই ৮৭৫টি সেমি-পাকা ঘর বরাদ্দ ও হস্তান্তর করা হয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ঘরের বিপরীতে বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। সে হিসাবে এই ধাপে মোট প্রাক্কলিত ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। তবে রাজমাল্লী, কালভৈরব, উত্তর বালাপাড়া ও কাকিনা আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের অভিযোগ নির্মাণকাজে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। এসব আবাসন প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা অভিন্ন অভিযোগ তুলে জানান, তাদের ল্যাট্রিনগুলোতে কোনো দরজাই দেওয়া হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অত্যন্ত নিম্নমানের দরজা দেওয়া হলেও নির্মাণকাজ শেষ হতে না হতেই তা ভেঙে বিনষ্ট হয়ে গেছে। হস্তান্তরের অল্প দিনের মধ্যেই বহু ঘরের দেওয়ালে ফাটল ধরাসহ মেঝে উঠে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজনৈতিক প্রভাব ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই অনিয়মের জাল বিস্তার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহম্মেদের প্রত্যক্ষ মদদে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও তৎকালীন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ফেরদৌস আহমেদ কালীগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই নানান অপকর্ম ও অনিয়মে লিপ্ত হন। এই চক্রটিকে সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা দিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন তৎকালীন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহির ইমাম। শুধু তাই নয়, এই দুর্নীতি ঢাকতে এবং প্রকল্প তদারকিতে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবের তৎকালীন সভাপতি আমিরুল ইসলাম হেলাল ও মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুসহ কয়েকজন স্থানীয় সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন সেই সময়ে। নামে-বেনামে কিনেছেন বিঘার পর বিঘা জমি। প্রেসক্লাবের তৎকালীন সভাপতি আমিরুল ইসলাম হেলাল কালীগঞ্জ থানা সংলগ্ন এলাকায় এবং পিআইও ফেরদৌস আহমেদ রংপুর শহরে নির্মাণ করেছেন বিলাসবহুল বহুতল ভবন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে তৎকালীন পিআইও ফেরদৌস আহমেদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে তিনি দিনাজপুর জেলায় কর্মরত থাকায় সরাসরি তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সরকারি এই বিপুল অঙ্কের বরাদ্দের অর্থ কোথায় কিভাবে ব্যয় হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ ও উচ্চতর তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল। বর্তমান সরকারের কাছে তাদের দাবি, কারিগরি দলের মাধ্যমে কাজের মান পুনর্নিরীক্ষা করে চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
Leave a Reply