ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ায় পৃথক বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৫০০ পুরিয়া হেরোইনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত সাভারের ভাটপাড়া, ব্যাংক কলোনী, পাকিজা ও আশুলিয়ার আরাগাঁও এলাকায় অভিযানগুলো পরিচালনা করা হয়।
ডিবি পুলিশ জানায়, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় এবং ঢাকা জেলা উত্তর ডিবির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এর মধ্যে প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় বুধবার বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে সাভার মডেল থানাধীন ভাটপাড়া এলাকায়। সেখানে এসআই শেখ মফিজুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মোস্তাক (৪৮) নামে একজনকে ৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মোস্তাক ভাটপাড়া উত্তরপাড়ার মৃত মনজু মিয়ার ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগে একটি মাদক মামলা রয়েছে।
পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সাভার মডেল থানাধীন ব্যাংক কলোনী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মনির হোসেন মনা (৩২) ও আরেফিন (৩৫) নামে দুজনকে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেন এসআই শেখ মাসুদ আল মামুন।
মনির হোসেন মনা রংপুরের মিঠাপুকুর থানার কাশিনাথপুর গ্রামের শফিক মিয়ার ছেলে। তিনি বর্তমানে সাভারের আনন্দপুর এলাকায় বসবাস করেন। তাঁর বিরুদ্ধে ছয়টি মাদক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অপর গ্রেপ্তার আরেফিন মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানার সুধখিরা গ্রামের আফাজ উদ্দিনের ছেলে।
একইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাভার মডেল থানাধীন পাকিজা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাজ্জাত হোসেন ওরফে সজল (২৮) নামে একজনকে ৫০০ পুরিয়া হেরোইনসহ গ্রেপ্তার করেন এসআই মো. মতিউর রহমান। সাজ্জাত ব্যাংক কলোনী এলাকার মো. বাদশা মিয়ার ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে একটি মাদক ও দুটি অন্যান্য ধারায় মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে, একই সময় আশুলিয়া থানাধীন আরাগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলমগীর হোসেন (৩৯) ও তুষার আহম্মেদ (৩২) নামে দুজনকে ২০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেন এসআই মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন।
গ্রেপ্তার আলমগীর হোসেন আশুলিয়ার সাধুপাড়া এলাকার মো. মারফত আলীর ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে একটি মাদক ও একটি অন্যান্য ধারায় মামলা রয়েছে। তুষার আহম্মেদ রাজশাহীর বাঘা থানার কেশবপুর এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকায় ভাড়া থাকেন।
ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে ঢাকা জেলা পুলিশের নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের পাশাপাশি মাদক সরবরাহ ও বিস্তারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। মাদকবিরোধী এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
Leave a Reply