গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। নাগরিক সনদ, জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। নির্ধারিত সময়ে সেবা না পাওয়া, নানা অজুহাতে হয়রানি এবং নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগও রয়েছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদটি ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। ইউনিয়নের বিপুলসংখ্যক মানুষের নাগরিক সেবা গ্রহণের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান এই ইউনিয়ন পরিষদ। তবে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর তৎকালীন চেয়ারম্যান পরিষদে না আসায় দীর্ঘদিন ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এতে নাগরিক সেবা নিতে আসা মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যায়।
পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় চেয়ারম্যান পদ শূন্য থাকা ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে নাগরিক সেবা কার্যক্রম সচল রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা বিএডিসি (সেচ) কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম।
তবে একই সঙ্গে দুই দপ্তরের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রশাসকের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের সেবা কার্যক্রমে কিছুটা ধীরগতি তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর সুযোগে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন সেবা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জন্য একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েও অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ কেউ নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগও করেছেন।
একজন সেবাপ্রত্যাশী বলেন, “সেবা নিতে এসে দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে। সময়মতো কাজ না হওয়ায় আমাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।”
অভিযোগের বিষয়ে ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “পরিষদের কিছু কর্মকর্তা অনিয়ম করে টাকা নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছি। তাদের শোকজ করা হয়েছে। তবে দুই দপ্তরের দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে গিয়ে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।”
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এইচ.এম. ফখরুল হোসাইন বলেন, “সেবাপ্রত্যাশীরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। টাকা নেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের সেবা কার্যক্রমে অনিয়ম ও হয়রানি বন্ধ করে নাগরিকদের সব ধরনের সেবা সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে নিশ্চিত করা হোক।
Leave a Reply