জামালপুরের আলোচিত চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দিদারুল ইসলাম দিদার জানান, ২০১৬ সালে মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ওই বছরের ১০ এপ্রিল পুলিশ ইছাহাকের সমর্থক ও আদারভিটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করতে গজারিয়া গ্রামে যায়। বাড়ি চিনতে না পেরে পুলিশ প্রতিবেশী মহর আলী ও তার ভাতিজা স্বপন মিয়ার কাছে মোস্তফার বাড়ির অবস্থান জানতে চায়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে জামিনে মুক্ত হয়ে প্রতিশোধ নিতে মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মোস্তফা—এমন অভিযোগ মামলায় উঠে আসে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে গান-বাজনার কথা বলে মহর ও স্বপনকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে তাদের জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার একটি পাটক্ষেতে নিয়ে হত্যা করা হয়। তিন দিন পর সেখান থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম ২২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আদালত আজ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে সাখাওয়াত, সোহেল, আল আমিন, সাদ্দাম, উজ্জল, অন্তর ও ফয়জুরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও করা হয়।
এছাড়া চাঁন মিয়া, মো. জিয়ার, শাহ আলম, কাওসার, রিফাত, সুমন ও মোস্তফাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বাদীপক্ষ।
Leave a Reply