দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পর বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারও সরাসরি ভোটাভুটির আয়োজন হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে দেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যরা ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন।
১৯৯১ সালের পর দেশে আর কোনো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোটের প্রয়োজন হয়নি। এরপর ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। তবে এবার দুইজন বৈধ প্রার্থী থাকায় ভোটগ্রহণ অপরিহার্য হয়েছে।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।
জাতীয় সংসদের মোট ৩৫০ আসনের মধ্যে বর্তমানে ৩৪৯ জন সদস্য এই নির্বাচনে ভোটার হিসেবে থাকছেন। সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিএনপির পক্ষে থাকায় রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে মির্জা ফখরুল এগিয়ে রয়েছেন। তবে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটাভুটির আয়োজন হওয়াকেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে গত ২৪ জুলাই প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটি শূন্য হয়। এরপর সংবিধান ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করে। ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় পার হলেও দুই প্রার্থীর কেউই সরে দাঁড়াননি।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট হবে গোপন ব্যালটে। ব্যালটে দুই প্রার্থীর নাম থাকবে এবং পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে স্বাক্ষর করে ভোট দিতে হবে। ৩৪৯ জন ভোটারের জন্য সমসংখ্যক ব্যালট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ভোটগ্রহণ শেষ হবে বিকেল ৫টায়। এরপর সংসদ কক্ষেই ব্যালট বাক্স খোলা হবে এবং উপস্থিত সংসদ সদস্য ও প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের সামনে ভোট গণনা করা হবে। বৈধ ভোটের মধ্যে সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট ও গণনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতার ভোটদান এবং ভোট গণনার পর্ব বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত রয়েছে।
এদিকে নির্বাচন স্থগিত ও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ চ্যালেঞ্জ করে করা একটি রিট হাইকোর্ট খারিজ করে দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ভোট আয়োজনে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
ফলে আজকের ভোটের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রত্যক্ষ করবে বাংলাদেশ। ভোট শেষে সংসদ কক্ষেই ফল ঘোষণা এবং পরবর্তীতে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের নামে সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হবে।
Leave a Reply