ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলায় জমি দখল, ধান কাটা, মেহগনি গাছ কেটে ক্ষতিসাধন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভূল্লী প্রেসক্লাব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোঃ আবু নাঈম বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন আইপি টিভি, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় মুজাবর্নী (ডাঙ্গাপাড়া) এলাকার একটি জমি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে জমিতে প্রবেশ করে ধান কাটা, মেহগনি গাছ কেটে ক্ষতিসাধন এবং একজনকে হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “উক্ত জমিটির খারিজ, খাজনা, এসএ, সিএস ও আরএসসহ সব কাগজপত্র আমাদের নামে রয়েছে।” জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে বলেও দাবি করেন তিনি।
গাছ কাটার অভিযোগের বিষয়ে আবু নাঈম বলেন, “যে গাছ কাটার কথা বলা হয়েছে, সেগুলো কয়েকদিন আগে লাগানো ছোট ছোট গাছ। আমাদের জমিতে, ওই গাছগুলো তারা জোরপূর্বকভাবে কয়েকদিন আগে সেখানে লাগিয়েছেন।” তাই সাতটি মেহগনি গাছ কেটে ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধনের অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, উক্ত জমিটি আমাদের দখলে রয়েছে, আমরা কারও জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করেননি, কারও ধান কাটেননি এবং কাউকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করার চেষ্টাও করেননি। জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে আমাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
তারা আরও বলেন, কোনো পক্ষ থানায় মিথ্যা অভিযোগ করলেই সেটি প্রমাণিত সত্য হয়ে যায় না। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো পক্ষকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন না করে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও জমির কাগজপত্র যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা প্রকাশ করে ঘটনাটির সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের দাবি জানান। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা যা উঠে আসবে, তা মেনে নেওয়ার কথাও জানান তারা।
তাদের দাবি, যাচাই-বাছাই ছাড়া গুরুতর অভিযোগ সংবাদে প্রকাশিত হওয়ায় তাদের সামাজিক ও ব্যক্তিগত সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোতে তাদের প্রতিবাদ বক্তব্যও প্রকাশের অনুরোধ জানান তারা।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ধান ও গাছগুলো কে লাগিয়েছিল—এ বিষয়ে আবু নাঈম বলেন, “উক্ত জমিতে ধান ও গাছ আমরা লাগাইনি। তারা জোরপূর্বকভাবে জমিতে যথাযথভাবে চাষাবাদ না করে খাস অবস্থায় ধান রোপণ করেন। এর কিছুদিন পর সেখানে গাছগুলো লাগানো হয়।”
সংবাদ সম্মেলনে তারা পুনরায় দাবি করেন, জমি দখল, ধান কাটা, গাছ কেটে ক্ষতিসাধন কিংবা হত্যাচেষ্টার অভিযোগের সঙ্গে তারা জড়িত নন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নতুন করে কোনো বিরোধ সৃষ্টি না করে আইন অনুযায়ী তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তারা।
Leave a Reply