গাজীপুরের শ্রীপুরে টাকার লোভে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশুকে মাদকাসক্ত এক যুবকের সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার মা-বাবার বিরুদ্ধে। বিয়ের পর শুক্রবার শিশুটিকে স্বামীর বাড়িতে পাঠানোর প্রস্তুতিও চলছিল। তবে তার আগেই বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বাড়ি থেকে পালিয়ে প্রতিবেশী নানার বাড়িতে আশ্রয় নেয় শিশুটি। পরে প্রশাসনকে জানানো হলে তাকে নিরাপদ হেফাজতে নেওয়া হয়।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটেছে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া গ্রামে। ভুক্তভোগী শিশুটিকে প্রতিবেদনে ‘মীম’ ছদ্মনামে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিশুটির ভাষ্য, প্রায় ১৫ দিন আগে পার্শ্ববর্তী ভালুকা উপজেলার কাশর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে রুবেলের সঙ্গে তাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়েতে রাজি না হলে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ তার।
শিশুটি জানায়, ছেলের পরিবারের আর্থিক অবস্থার কথা বলে তাকে নানা ধরনের প্রলোভন দেখানো হয়। একপর্যায়ে কাজি ডেকে এনে তার বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। শুক্রবার তাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠানোর বিষয়ে মা-বাবার কথাবার্তা শুনে রোববার বিকেলে বাড়ি থেকে পালিয়ে প্রতিবেশী নানা সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে যায় সে। পরে মামা শরিফুল ইসলামকে পুরো ঘটনা জানায়।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শিশুটির মা-বাবা ও অভিযুক্ত যুবককে খুঁজতে গেলে তারা পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান। পরে প্রশাসন ও পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।
শিশুটির প্রতিবেশী মামা শরিফুল ইসলাম বলেন, শিশুটির কাছ থেকে ঘটনা শুনে তারা দ্রুত প্রশাসনকে জানান। তার দাবি, অভিযুক্ত যুবক মাদকাসক্ত এবং টাকার লোভে শিশুটির মা-বাবা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের পরিচালক জানান, শিশুটি তাদের বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। ঘটনা জানার পর প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাহাবুব আলম জানান, খবর পাওয়ার পর মেম্বার ও গ্রাম পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে এর আগেই শিশুটির মা-বাবা অভিযুক্ত যুবককে নিয়ে পালিয়ে যায়। আপাতত শিশুটিকে তার প্রতিবেশী নানার বাড়িতে নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে তিনটি মাদক মামলা রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, শিশুটিকে নিরাপদে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত কাজিকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি শিশুটির মা-বাবাকেও খুঁজে এনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
Leave a Reply